ওয়েব ডেস্ক জনদর্পন।। ১৮তম BRICS সম্মেলনকে ঘিরে সরগরম নয়াদিল্লি। আর সেই আবহেই শনিবার রাজধানীতে পা রাখলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় সাত বছর পর তাঁর এই ভারত সফরকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

দিল্লি বিমানবন্দরে চিনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদা।BRICS সম্মেলনের পাশাপাশি ভারত-চিন সম্পর্কও যে এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তা স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভারত।

BRICS-এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।এর মধ্যেই শনিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা শি জিনপিংয়ের। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়টি বরাবরই ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।সম্প্রতি SCO সম্মেলনেও মোদী ও শি-র মধ্যে সাক্ষাৎ হয়েছিল। এর আগে ২০২৫ সালে তিয়ানজিনে SCO সম্মেলনের ফাঁকেও দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক হয়। এবার দিল্লির মাটিতে মুখোমুখি বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কী বার্তা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে এই বৈঠক নিয়ে প্রস্তুতি চলছে।

তাঁর বক্তব্য, দুই রাষ্ট্রনেতার দেওয়া কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করেই দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারত-চিন সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় বেজিং।BRICS সম্মেলনের মঞ্চে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আর মোদী-শি বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক—দুই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *