আগরতলা।। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাতভর বিভিন্ন জেলায় ভারী বর্ষণ হয়। পাহাড়ে ভারি বৃষ্টির ফলে বিপদসীমার হাওড়া নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। জলবন্দি মানুষকে উদ্ধারে জিরানিয়া মহকুমা প্রশাসন চারটি এবং সদর মহকুমা প্রশাসন বলদা খাল সহ অন্যান্য এলাকায় তিনটি শেল্টার হাউস চালু করেছে।

উজান এলাকায় ভারী বর্ষণের ফলে হাওড়া নদীতে জলস্ফীতি দেখা দেয়। রবিবার সাত সকাল থেকেই নদীর জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাতে হাওড়া নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা জলবন্দী হয়ে পড়েন । নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বের হয়ে আসেন।

জিরানিয়া মহকুমা প্রশাসন মান্দাই এবং রানীরবাজার এলাকার জলবন্দি জনগণকে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এদিন সকাল থেকে জল বাড়তে থাকে পুরাতন আগরতলা , বলদা খাল, শ্রীলঙ্কা বস্তি সহ সংশ্লিষ্ট নিম্নাঞ্চলগুলিতে । বলদাখাল এলাকায় মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের ছুটে আসেন জিরানিয়া মহকুমা শাসক অনিমেষ ধর ও এলাকার বিধায়ক রতন চক্রবর্তী।

এদিন জিরানিয়া মহকুমা শাসক অনিমেষ ধর জানান, মান্দাই , পুরাতন আগরতলা , চন্দ্রপুর এবং রানীরবাজার এলাকায় চারটি শেল্টার হাউস স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বলদাখাল এলাকায় সদর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে তিনটি সেল্টার হাউস খোলা হয়েছে। শেল্টার হাউস গুলোতে উদ্ধারকৃত মানুষজনদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রবিবার সকাল দশটা পর্যন্ত হাওড়া নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৮৬ সেন্টিমিটার।

নদীর জল যতক্ষণ পর্যন্ত বিপদসীমার উপরে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলবে। তিনি জানান , উদ্ধারকাজে প্রশাসনের সাথে রয়েছে টিএসআর দশম এবং দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়ন,এনডিআরফ, সিভিল ডিফেন্স এবং স্কাউটস এন্ড গাইডস এর স্বেচ্ছাসেবকরা। পাঁচটি বোটের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ চলছে। আরো একটি বোট স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে। এদিকে পুরাতন আগরতলা, বলদাখাল, মরিয়ম নগর, বৃদ্ধি নগর প্রভৃতি জলবন্দি এলাকাগুলি নৌকা করে পরিদর্শন করেন এলাকার বিধায়ক রতন চক্রবর্তী।

তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন। আমরাও প্রস্তুত রয়েছি। বলদাখাল ছাড়াও মরিয়ম নগর , কালীনগর, বৃদ্ধি নগর প্রভৃতি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে বিমানবন্দর সংলগ্ন আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে ,আগামী বুধবার পর্যন্ত উত্তর ত্রিপুরা, ঊনকোটি ,ধলাই, খোয়াই ,পশ্চিম ত্রিপুরা এবং গোমতী জেলায় ভারি বর্ষণের হলুদ সতর্কবার্তা রয়েছে। রয়েছে বজ্র বিদ্যুত সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *