আগরতলা: পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ত্রিপুরা রাজ্যে মেধার অভাব নেই। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্রীড়া বিভাগে ত্রিপুরার খেলোয়াড়রা তাঁদের সুনাম কুড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে, যা দেশ বিদেশে সমাদৃতও হয়েছে। সম্প্রতি গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস-এ অস্মিতা দে-র সাফল্য এবং দেশের প্রথম জুডোকা হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি ত্রিপুরার এবং আমাদের দেশেকেও গৌরবান্বিত করেছে।

আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে যুববিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত কমনওয়েলথ গেমস-এ স্বর্ণপদক জয়ী ত্রিপুরার কৃতি জুডোকা অস্মিতা দে’র সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন ত্রিপুরার মানুষ ‘গোল্ডেন গার্ল’ হিসেবে দীপা কর্মকারকে চিনতেন এবং তাঁর সাফল্যে গর্ব করতেন। আজ অস্মিতা দে সেই তালিকায় দ্বিতীয় নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনীয়া মহকুমার সোনাইছড়ি গ্রামের এক অতি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে অস্মিতা কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর এই সাফল্য সমগ্র রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয়।

অস্মিতার জীবনসংগ্রামের কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অস্মিতার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি তাঁর বাবার কঠিন জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পারেন। অস্মিতার সাফল্যের পিছনে তাঁর পরিবারের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথাও মুখ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। অস্মিতার বাসস্থানের সমস্যার কথা জানতে পেরে মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্রীড়ামন্ত্রী টিঙ্কু রায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ তাঁর পরিবারের জন্য জমি প্রদানের সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে অস্মিতা উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে কর্মরত থাকলেও ত্রিপুরা সরকার সবসময় তাঁর পাশে থাকবে বলে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা তাঁকে আশ্বস্থ করেন।

রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটা সময় ত্রিপুরায় খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া পরিকাঠামোর অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিলো। বর্তমানে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। রাজ্যে আধুনিক সিন্থেটিক ফুটবল মাঠ, হকি মাঠ এবং উন্নতমানের স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছে। ত্রিপুরার ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন দেখে বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড়রাও মুগ্ধ হচ্ছেন।

              
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার সফল ক্রীড়াবিদদের সম্মানও জানাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার শুধু বর্তমান প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করছে না, প্রথিতযশা ও প্রয়াত ক্রীড়াবিদদেরও যথাযোগ্য সম্মান জানাচ্ছে। অনেক ক্রীড়াবিদদের নামে বিভিন্ন ক্রীড়া পরিকাঠামোর নামকরণ করা হয়েছে। যা আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। পাশাপাশি অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত মন্টু দেবনাথ, কল্পনা দেবনাথ এবং সোমদেব দেববর্মনের অবদানের কথাও মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন।

                 
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে একজন মানুষের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়। সুস্থ শরীরের মধ্যেই সুস্থ মনের বাস। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ত্রিপুরাতে মেধার অভাব নেই। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্রীড়া বিভাগে ত্রিপুরার খেলোয়াড়রা তাঁদের সুনাম কুড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে, যা দেশ বিদেশে সমাদৃতও হয়েছে। বর্তমান সময়ে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করারও সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
                    
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অস্মিতার এই সাফল্য ত্রিপুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা প্রতিভাবান ছেলে-মেয়েদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। প্রতিভা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। ত্রিপুরার একটি গ্রামীণ পরিবার থেকে উঠে আসা অস্মিতার এই সাফল্য নারী ক্ষমতায়নেরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুখ্যমন্ত্রী আগামী দিনে অস্মিতার আরও সাফল্য কামনা করেন।

                    
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়। আলোচনায় অংশ নেন কমনওয়েলথ জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদকজয়ী অস্মিতা দে। এদিন অনুষ্ঠানে অস্মিতা দে, তাঁর কোচ যশপাল সোলাঙ্কি (হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর, স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া) এবং তাঁর পূর্বতন প্রশিক্ষকদের আগরতলা পুরনিগম সহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অস্মিতার হাতে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কারের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। একইসঙ্গে তাঁর পরিবারের জন্য জমি বরাদ্দের অনুমোদনপত্র তুলে দেওয়া হয়।         
                    
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব তাপস রায়, দপ্তরের অধিকর্তা এল. ডারলং, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জিমন্যাস্ট পদ্মশ্রী দীপা কর্মকার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *