আগরতলা: বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই ত্রিপুরায় স্মার্ট মিটার প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও প্রকল্পটি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত প্রায় ৮০ কোটি টাকার কাজের অর্ডারেও ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

মঙ্গলবার আগরতলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে স্মার্ট মিটার প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮০ কোটি ৭ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকার ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল Wipro এবং M/s J & J Powercom System Limited-কে। চুক্তি অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।মন্ত্রী জানান, ২৭ মাস পর সামান্য কিছু সামগ্রী সরবরাহ করা হয় এবং প্রতীকীভাবে কাজ শুরু হয়। মোট ৪৩ হাজার স্মার্ট মিটারের মধ্যে মাত্র ৩৪,৩০০টি মিটার চালু হয়েছিল।

কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তিন মাসের মধ্যেই সেই মিটারগুলির একটি বড় অংশ অচল হয়ে পড়ে।রতন লাল নাথ আরও বলেন, ভারতীয় অডিট ও অ্যাকাউন্টস (AG) দপ্তরের রিপোর্টেও এই প্রকল্পে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি উঠে এসেছে। অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যকলাপের কারণে প্রায় ৪২.৭৬ কোটি টাকার ব্যয় নিষ্ফল হয়ে যায়। একই সঙ্গে ঠিকাদারকে অযৌক্তিক সুবিধা দেওয়ারও অভিযোগ উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সরকার তা গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম -এর কোনও স্বাধীন ক্ষমতা নেই। ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (TERC) প্রতিবছর বিদ্যুৎ ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ বিবেচনা করে ট্যারিফ ও বিভিন্ন চার্জ নির্ধারণ করে জানিয়ে দেয় রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমকে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মানুষের অসন্তোষের পর মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা, বিদ্যুৎমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা বৈঠক করেছেন।তিনি বলেন সরকার কোনওভাবেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। ভোক্তাদের কীভাবে স্বস্তি দেওয়া যায়, তা নিয়ে শীঘ্রই ফের বৈঠক করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিরোধীদের সমালোচনা করে রতন লাল নাথ বলেন, অতীতের ঘটনা ভুলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। তাঁর দাবি, স্মার্ট মিটার প্রকল্পের গোড়াপত্তন বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই হয়েছিল, অথচ বর্তমানে সেই প্রকল্পের ব্যর্থতার দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৭ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী মানিক দে রাজ্যে স্মার্ট মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করা। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে তৎকালীন সরকারের ব্যর্থতা এবং আর্থিক অনিয়মের কারণে সেই উদ্যোগ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি ।

তিনি বলেন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পের ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে এখন রাজনৈতিকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *