আগরতলা: রাজ্যের মানুষের চিকিৎসার ব্যয় কমিয়ে ত্রিপুরাতেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা বর্তমান রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। বৃহৎ অংশের মানুষের কথা চিন্তা করে রাজ্যে যথা সম্ভব উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করার জন্য রাজ্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুর ৬৯তম পর্বে রাজ্যের বিভিন্ন অংশের মানুষ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা একথা বলেন।
সাক্ষাৎ প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো যে অনেক উন্নত হয়েছে তার প্রমাণ হাতেনাতে পাওয়া যাচ্ছে। আগে যে সমস্ত রোগের জন্য বহিরাজ্যে ছুটতে হতো তা অনেক ক্ষেত্রেই এখন সেসব রোগের চিকিৎসা আগরতলাতেই হচ্ছে। কোনও ক্ষেত্রে যদি একান্তই রাজ্যে চিকিৎসা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে দিল্লি এইমসের মতো নামকরা সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জিবি হাসপাতালে যে টেলিমেডিসিন বিভাগটি আছে তার মাধ্যমে অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও অনেকেই আজ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে অংশ নেন। এদের অধিকাংশই ছিল চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা। মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্ত সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনে এগুলির সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং নির্দেশ দিয়েছেন।
সন্তানের জটিল রোগের চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে আজ এসেছিলেন ধলাই জেলার আমবাসার রূপালি নমঃশূদ্র। কৈলাসহরের ধনবিলাস গ্রাম থেকে বিকাশ দেববর্মার জটিল রোগের চিকিৎসার সহায়তার আর্জি নিয়ে তার স্ত্রী, উত্তর ত্রিপুরা জেলার আব্দুল হোসেন এসেছিলেন তার স্ত্রীর জটিল রোগের চিকিৎসার সহায়তার জন্য। একই সঙ্গে খোয়াই জেলার পশ্চিম সোনাতলা থেকে প্রবীর বর্মন তার ছেলের দুই চোখের জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তায় আবেদন নিয়ে, ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় থেকে গায়েত্রী ভট্টাচার্য এসেছিলেন খাদ্যনালির জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তার আর্জি নিয়ে।
মুখ্যমন্ত্রী তাদের সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। এরমধ্যে দু’জনকে দিল্লির এইমসে নিয়ে চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে আধিকারিকদের বলেন। মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুর ৬৯তম পর্বে আগরতলার প্রতাপগড় থেকে সিতু সাহা ছেলের জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য, সাজু ঋষিদাস মেয়ের জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য, টাউন প্রতাপগড় থেকে ববিতা সাহা তার মেয়ের চোখের চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সমস্যার কথা শুনে স্বাস্থ্য দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেন।
এছাড়া আগরতলার মাস্টার পাড়ার সঙ্গীতা ধর স্বামীর ক্যান্সারের চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য, নরসিংগড়ের ঝুমুর শীল ভৌমিক তার পেনশনের সমস্যা হওয়ায় সে বিষয়ে সহযোগিতার আর্জি নিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই সঙ্গে বনমালিপুর থেকে রেবিকা দেববর্মা তার দিদিমার ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য, আগরতলার জয়নগর থেকে অর্পিতা চক্রবর্তী সন্তানের জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য, টাউন বড়দোয়ালি থেকে নোটন দাস তার স্ত্রীর জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আজ সাক্ষাৎ করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর থেকে মমতা নাথ এসেছিলেন স্বামীর জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তার আর্জি নিয়ে।
মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শান্তিব্রত পালের অভিভাবকরা শান্তিব্রতের কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য, বাইখোড়ার টুটন দেবনাথ চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহায়তার আর্জি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এছাড়া মহারাজগঞ্জ বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাদের সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে আজ আগরতলার ৭৯টিলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত একজনের অভিভাবকের হাতে মুখ্যমন্ত্রী ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।
