আগরতলা : স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পাঁচ পাতার একটি চিঠি লিখে নিখোঁজ হয়ে গেছেন এক গৃহবধূ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সোনামুড়া এলাকায়। নিখোঁজ গৃহবধূর নাম সীমা আক্তার।
এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ১৩ বছর আগে সোনামুড়া থানাধীন উরমাই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজের মেয়ে সীমা আক্তারের বিয়ে হয় সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের সঙ্গে। অভিযুক্ত আব্দুল জলিল স্থানীয়ভাবে বিজেপির এক নেতা এবং সোনামুড়া মণ্ডলের প্রাক্তন সম্পাদক বলেও জানা গেছে। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রথম কয়েক বছর সংসার ভালোই চললেও পরে স্বামী পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকেই সীমা আক্তারের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়।
সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি সহ্য করেও সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২০ দিন আগে নতুন করে এক বিতর্কের সূত্রপাত হয়। স্বামীর বোন নাকি সীমা আক্তারের কাছে একটি সোনার বিস্কুট রাখার জন্য দেন। কয়েকদিন পর সেটি ঘর থেকে চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয় এবং এর জন্য সীমা আক্তারকেই দায়ী করা হয়।
পরিবারের দাবি, সেই সোনার বিস্কুটের মূল্য প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা বলে উল্লেখ করে তার কাছ থেকে সেই অর্থ জরিমানা হিসেবে দাবি করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই সীমা আক্তারের উপর মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। অভিযোগ, স্বামী আব্দুল জলিলও বোনের পক্ষ নিয়ে স্ত্রীর উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। অবশেষে গত ৮ মার্চ সন্ধ্যায় পাঁচ পাতার একটি চিঠি লিখে সীমা আক্তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ।
চিঠিতে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগসহ দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কথাও উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর মেয়ের পরিবার সোনামুড়া থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করে। তবে তাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত স্বামী রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কারণেই তাদের মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গেছে এবং তিনি জীবিত আছেন কি না তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
দ্রুত সীমা আক্তারকে খুঁজে বের করার দাবিতে তারা জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে পরিবারের আরও অভিযোগ, অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য মেয়ের বাবাকে হুমকি দিচ্ছেন অভিযুক্ত স্বামী আব্দুল জলিল। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
