আগরতলা: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা আজ বলেছেন যে ২০২৫ সালে ত্রিপুরা রাজ্যে সামগ্রিক অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলছেন গাঁজা ধ্বংসের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে কীভাবে আরও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আজ আগরতলার এডি নগরে ত্রিপুরা পুলিশ সপ্তাহের কুচকাওয়াজে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহ সেবা এবং কৃতিত্বের প্রতীক হিসেবে পালন করা হয় এবং অনেক পুলিশ কর্মী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিষেবা একটি ত্যাগের সেবা। আপনাদের কারণে জনসাধারণ এখন নিরাপদ। জনগণ পুলিশের উপর নির্ভরশীল। ত্রিপুরায় একটি সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ত্রিপুরা পুলিশ অত্যন্ত অক্লান্তভাবে কাজ করছে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং ত্রিপুরা পুলিশের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এর জন্য আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাতে চাই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ যে পোশাক পরে সেটা একটা অলংকার। ঈশ্বর আপনাদের এই পোশাক পরার জন্য আশীর্বাদ করেছেন। আপনারা যখনই এই পোশাকটি পরেন আপনারা একজন ভিন্ন মানুষ। আজ ত্রিপুরা পুলিশ ১৫০ বছর পূর্ণ করেছে এবং ভারতের প্রাচীনতম পুলিশ বাহিনীগুলির মধ্যে এটি একটি। ত্রিপুরা পুলিশ ১২ জানুয়ারী ২০১২তে প্রেসিডেন্টস কালার্স সম্মান পায়। সমগ্র দেশ ত্রিপুরা পুলিশ সম্পর্কে ভালভাবে অবগত রয়েছে। আর অপরাধীরাও এখন বিভিন্ন উপায় এবং কৌশল ব্যবহার করছে। তাই আমাদেরও পরিবর্তন করতে হবে এবং প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে। যা খুবই চ্যালেঞ্জিং। এক্ষেত্রে কিভাবে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আমি ফাইল পেয়েছি। এর জন্য, আপনারা কাজ করবেন এবং আমরা যা যা প্রয়োজন তা করব।
ডাঃ সাহা, যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও, জানিয়েছেন যে গত ২০ বছরের তুলনায় সামগ্রিক অপরাধের হার ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে অপরাধের হার ৮.২০% কমেছে। ২০২৪ সালে মোট ৪,০৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে ২০২৫ সালে এটি ৩,৬৯৮টি। ২০২৪ সালের তুলনায় সম্পত্তি-সম্পর্কিত অপরাধ ২০২৫ সালে প্রায় ১৬% কমেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে শারীরিক অপরাধ প্রায় ১৪.৫৪% কমেছে। নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের দিকে লক্ষ্য রেখে একটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যেতে পারে। নারী সংক্রান্ত অপরাধ গত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে ৮.১% হ্রাস পেয়েছে। আমরা নারী ঘটিত অপরাধের মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিটি থানায় ২৪x৭ মহিলা হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। আমি নিয়মিত রিপোর্ট সংগ্রহ করি। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এখন মহিলা থানা খোলা হয়েছে। যার সংখ্যা ৯টি।
মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা দুর্ঘটনার সংখ্যা কমাতে চাই। একটি শূন্য দুর্ঘটনা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে এবং এর জন্য ১৬টি ব্ল্যাক স্পট এবং ৮৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ইন্টারসেপ্টর গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮.৮২% হ্রাস রেকর্ড করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুও ২০২৫ সালে ১৩% হ্রাস পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে রাজ্য সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। একদিনে কিছু করা যায় না। বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি বেড়েছে এনডিপিএস মামলা। গাঁজা ধ্বংসের অভিযানের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে এনডিপিএস মামলা প্রায় ১১.০৬% বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে গাঁজা বাজেয়াপ্ত ১৪.৪%, কফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত ১৪৬৫.৭৩% এবং ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত ২৬.৩৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা গাঁজা ধ্বংস করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। আমরা কীভাবে গাঁজা ধ্বংস বৃদ্ধি করতে আরও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারি সেবিষয়ে আমি ডিজিপি এবং অন্যান্য আধিকারিকদের সাথে যোগাযোগ করছি।
এই বছর গাঁজা গাছ ধ্বংসের পরিমাণ ৯৪.৭১% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রায় ৯২.৭০% বাজেয়াপ্ত এবং ধ্বংস হয়েছে, যার বাজার মূল্য ১,৬৪১.৮৯ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় ত্রিপুরা পুলিশ প্রতিরক্ষার দ্বিতীয় লাইন হিসেবে কাজ করছে। ২০২৫ সালে, প্রায় ৫৭৬ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং ১০২ জন সহায়তাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমরা সাইবার থানাকে আধুনিকীকরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। একে শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত, ত্রিপুরা পুলিশ ৪৬টি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছে। পুলিশও জনহিতকর কাজের মধ্যে নিয়োজিত রয়েছে। মোট ৯৫৩ জন কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩১৮ জন মহিলা এবং ৬৩৫ জন পুরুষ। আরও ৯১৬ জন পুলিশ কনস্টেবলের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং রাজ্য সরকার ২১৮ জন সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ।
