আগরতলা :সহজ সরল ভাবে এসপিও -তে নিয়োজিত কর্মীরা এবার দশ দফা দাবিতে সরব হলেন সারা রাজ্যে। সোমবার আগরতলা এবং ধর্মনগরে এসপিও জওয়ানদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়।
এস পি ও পরিবারদের আন্দোলন তাদের দাবি এস পি ও দের নিয়মিতকরণ সহ ১০ দফা দাবি নিয়ে পশ্চিম জেলার এসপির নিকট ডেপুটেশন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদেরকে আটকে দেওয়া হয়েছে উমাকান্ত মাঠের সামনে।এদিন রাজ পথে পা মিলালো এস পি ও জোয়ানদের পরিবারের শত শত মা-বোনেরা। হাতে দাবী পত্র, চোখে দৃঢ়তা, দীর্ঘ বঞ্চনার বুক চাপা যন্ত্রণায় পুঞ্জিভূত ক্ষোভ যেন তাদের চোখে মুখে ঠিকরে পড়ছিল। এই চেহারাতেই আজ রাজ্যের দুটি জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে তাদের পদযাত্রা যেন ছিল এক নিঃশব্দ বিস্ফোরণ।
কেউ শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে,কেউ আবার কোলে নিয়ে হাজির হয়েছেন আন্দোলনের ময়দানে।বয়স্ক মায়েদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। একটা স্লোগান, বেতন নয়, এস পি ও জওয়ানদের চাকুরী নিয়মিত করতে হবে। রাজ্য আরক্ষা দপ্তরে কর্তব্যরত স্থায়ী পুলিশ কর্মীদের মতো ভাতা ও পেনশন চালু করতে হবে। না হলে আগামী দিনে আরো বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করা হবে বলেও আজ রাজপথে মিছিল থেকে ঘোষণা করেছে এস পি ও জোয়ানদের পরিবারের মা- বোনেরা।
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের ন্যায্যপ্রাপ্য আদায়ের লড়াইয়ে তারা আপসহীন। রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথম এসপিও জওয়ানদের পরিবারের মহিলা সদস্যরা এত বৃহৎ আকারে সংঘটিত হয়ে আন্দোলনে নামলেন যা এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আজো অধরা। তখন মাঠে-ঘাটে, হাটে বাজারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বিজেপি ক্ষমতায় এলেই অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করা হবে, বিশেষভাবে এস পি ও’দের বিষয়টি অগ্রাধিকারে থাকবে।
কিন্তু ক্ষমতায় আসার প্রায় আট বছর পরও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ন্যূনতম কোনও উদ্যোগ নেই। রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৩৭০০ এসপিও কর্মরত। প্রতি পরিবারে গড়ে তিনটি ভোট ধরলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৃহৎ ভোট ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন এডিসি নির্বাচন সহ ভবিষ্যতের রাজ নৈতিক সমীকরণে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাসে মাত্র ১১ হাজার টাকার বেতনে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ডিউটি করেও এস পি ও জওয়ানরা তাই কর্মীদের মত বেতন বা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে সংসার প্রতিপালন, সন্তানের পড়াশুনা এবং দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের পরিবারকে। এই পরিস্থিতির কারণেই বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
এদিন ধর্মনগরে উত্তর জেলার এসপিও জওয়ানদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এসপিও পরিবারের মহিলারা একত্রিত হয়ে উত্তর জেলা পুলিশ সুপারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে তাদের দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এই স্মারকলিপি জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে রাজ্যের পুলিশ মহা নির্দেশক এবং মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। এসপিও জোয়ানদের এই দাবি নতুন কিছু নয়। বরং বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
অনেকেই বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে একদিকে যেমন হাজারো পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত জওয়ান দের মনোবলও বৃদ্ধি পাবে।অন্যথায় এই অসন্তোষ ক্রমশ বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিতে পারে,যা প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
