আগরতলা।।রাজনৈতিক খুন যাদের হয়েছে তাদের পরিবারকে সরকারি চাকরি প্রদান নিয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
মন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান এই রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে অতীতে যে সরকার ছিল সেই সময় বহু রাজনৈতিক খুন হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ পর্যন্ত এই খুনের পরিমাণ ১৫ হাজার ৫৯৯ জন। এরমধ্যে কয়েকশ হয়েছে রাজনৈতিক খুন।
২০১৮ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন হওয়ার পর সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সকল রাজনৈতিক পরিবারে লোক খুন হয়েছে তাদের পরিবারে যদি কেউ উপযুক্ত লোক থাকে অথবা যিনি খুন হয়েছেন তার উপর নির্ভরশীল যদি কোন পরিবার থাকে তবে সেই পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। এই স্কীমের নাম দেওয়া হয়েছে স্কীম ফর প্রোভাইডিং এমপ্লয়মেন্ট টু মেম্বার্স অফ ফ্যামিলি অফ পারসন্স কিলড ইন পলিটিকাল ভায়োলেন্স।
তিনি বলেন 9-3 2018 পর্যন্ত অর্থাৎ তার আগে যদি কোন পরিবারে রাজনৈতিক খুন হয়ে থাকে এবং সেই পরিবারের যদি উপযুক্ত কোন লোক থাকে তাহলে তাকে একটি সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাক্তার মানিক সাহার নেতৃত্বে কেবিনেটে একটি আমেন্ডমেন্ট স্বাক্ষরিত হয় তাতে নয় মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত তারিখটি তুলে দেওয়া হয়। এবং কোন সময় রাজনৈতিকভাবে যদি কেউ খুন হয়ে থাকে তার পরিবারে উপযুক্ত একজন ব্যক্তিকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাতে কিছু নিয়ম-কানুন লাগু করাও হয়েছে। কারণ এটা কি রাজনৈতিক খুন কিনা সেটা কে নির্ধারণ করবে সে কি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে খুন হয়েছে নাকি জমি বিবাদ নিয়ে খুন হয়েছে না দুই বন্ধুর ঝগড়া থেকে খুন হয়েছে সেগুলি সাধারণত পুলিশ নির্ধারণ করে। তাই পুলিশের সার্টিফিকেটের উপরেই নির্ধারিত হবে সেটা রাজনৈতিক খুন কিনা।
তারপর তার কোন উত্তরাধিকার আছে কিনা সেটা নির্ধারণ করবে সিভিল প্রশাসন। এই সকল রিপোর্ট আসার পর একটি স্ক্রুটিনি কমিটি গঠিত হয়েছে সেখানে তা যাচাই বাছাই হবে। মন্ত্রী রতনলাল নাথ জানান এই স্কুটিনি কমিটিতে এখন পর্যন্ত ৩৮ টি পিটিশন দাখিল হয়েছে তার থেকে সরকার ১৮ জনকে ইতিমধ্যেই নিয়োগ পত্র দিয়েছে। আরো ১১ জনের নাম এই কমিটি সুপারিশ করেছে। এরমধ্যে পাঁচটি পিটিশন বাতিল করা হয়েছে। কারণ তারা পলিটিকাল গ্রাউন্ড প্রমাণ করতে পারেনি।
এদিন তিনি রাজনৈতিক হিংসা সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার অগ্রগতি এবং সরকার গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কেও সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
