আগরতলা।। দুই দিনের সফরে ত্রিপুরায় এসেছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন বিজয়া রাহাত কর। তাঁর এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সফরকালে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নারী সুরক্ষা, নারী অধিকার, নারী ক্ষমতায়ন এবং মহিলাদের কল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার রাজ্য অতিথি শালায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানান জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন বিজয়া রাহাত কর।। তিনি জানান, উনার দুইদিন রাজ্য সফরকালীন একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ করেন।। বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি নারী সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও মহিলাদের নিরাপত্তা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা করেন।তিনি বলেন ত্রিপুরার নারীরা সর্বদাই সামনের সাড়িতে এসে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছেন। এখনো ত্রিপুরা রাজ্যের নারীরা বিভিন্ন বিষয়ে এগিয়ে এসে কথা বলার সাহস রাখেন।এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ বর্তমান সময়ে নারীরা যদি সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগিয়ে না আসে তাহলে তারা তাদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না। তিনি বলেন বর্তমানে নারীরা দেশের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও নিজেদের নিয়োজিত করতে পারছেন। সেটা সেনাবাহিনী হোক কিংবা পুলিশ বিভাগ সকল ক্ষেত্রেই মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু রাজ্যের মেয়েরা অনেক সময় এই সকল নিয়োগের ব্যাপারে অবগত হতে পারে না অথবা এই সকল নিয়োগ পরীক্ষায় কিভাবে মানসিক এবং দৈহিক প্রস্তুতি নিতে হয় সেই বিষয়ে অবগত হয় না। সেই কারণে তিনি গতকাল উদয়পুরে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে মেয়েদের কিভাবে রক্ষা ক্ষেত্রে নিজেদের নিয়োগ করতে পারে সেই ব্যাপারে দৈহিক ও মানসিক প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে অনেকেই এগিয়ে এসে এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন আগামী দিনে রাজ্য থেকে আরও অধিক সংখ্যক মেয়েরা ভারতের রক্ষা ক্ষেত্রে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারবে। জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন বলেন ভারত সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতবর্ষকে বাল্যবিবাহ মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর তার জন্য এখন থেকে বাল্যবিবাহ রোধে বিভিন্ন প্রকার পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য তিনি আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান।
তিনি বলেন রাজ্যের মহিলারা বিশেষ করে স্বসহায়ক দল, এবং লাখপতি দিদিদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বুঝতে পেরেছেন রাজ্যে মহিলারা নিজেদের আত্মনির্ভর করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন এতে করে মহিলাদের সমাজের প্রতিষ্ঠা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক বিশেষ ভূমিকা থাকবে।
তিনি বলেন গতকাল মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পূজার্চনা করে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন। মাথা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরকে যেভাবে নতুন পরিসরে সাজানো হয়েছে এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে তাতে করে বুঝা যায় রাজ্য সরকার ত্রিপুরার উন্নয়নে সচেষ্ট ভূমিকা রাখছে।
