আগরতলা: বসন্ত ঋতু প্রকৃতির নবজাগরণের প্রতীক। চারিদিকে ফুলের সুবাস।সবুজের সমারোহ এবং মনোরম আবহাওয়া মানুষের মনে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস জাগিয়ে তুলে। এই সময় দেবী দুর্গার পূজা করলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে ভক্তদের মধ্যে এমনটাই বিশ্বাস প্রচলিত।

বাসন্তী পূজা হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। যা মূলত বিভিন্ন স্থানে গভীর ভক্তি ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপিত হয়। এই পূজা দেবী দুর্গার আরাধনার জন্য নিবেদিত এবং শরৎকালের দূর্গা পূজার মতোই এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বাসন্তী পূজায় প্রাচীনকালে দেবী দুর্গার পূজার আসল সময় বলে মনে করা হয়।শনিবার বাসন্তী পূজার বিজয়া দশমী আনন্দ- উচ্ছ্বাসের মাঝেও বিদায়ের বিষণ্ণতা সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দেবীর বরণে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।ঐতিহ্যবাহী আগরতলা দুর্গা বাড়িতেও সকাল থেকে ভক্তদের ঢল নামে।প্রথা অনুযায়ী, শনিবার সকালে রাষ্ট্রীয় সালামির মধ্য দিয়ে রাজ ঘটকে দুর্গাবাড়ি থেকে রাজবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পূজার সকল আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয় দেবীর বরণ পর্ব।আজ বিজয়া দশমী উপলক্ষে শেষ বেলায় মাকে বরণ করে সিঁদুর খেলে এ বছরের জন্য বাসন্তী মাকে বিদায় জানালেন সকলে। সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্ডপে মন্ডপে বিষাদের সুর।কোথাও মাকে বরণ করা হচ্ছে — কোথাও আবার সিঁদুর খেলে দেশ রাজ্য ও স্বামীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করছেন সকলে।আজ সন্ধ্যা সাতটায় রাষ্ট্রীয় সালামীর মাধ্যমে হবে প্রতিমা নিরঞ্জন। জানিয়েছেন দুর্গা বাড়ির প্রধান পুরোহিত জয়ন্ত ভট্টাচার্য।

তিনি আরো জানিয়েছেন, আজ সকালে পুজোর পর নারায়ণকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লক্ষী নারায়ণ বাড়িতে। বাসন্তী পূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বোধ ঘরে তুলে। সবাই একসঙ্গে মিলিত হয়ে পূজায় অংশগ্রহণ করে, প্রসাদ গ্রহণ করে এবং আনন্দ ভাগ করে নেয়।

এটি সামাজিক বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে এবং প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। দশমীর দিনে দেবীকে বিদায় জানিয়ে পূজার সমাপ্তি ঘটে।যা ভক্ত দের মনে আবেগ ও শ্রদ্ধার এক বিশেষ অনুভূতি জাগিয়ে তুলে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *