আগরতলা : ভুয়ো আধার, ধর্মান্তরকরণ, স্ত্রী নির্যাতন,নারী পাচার সহ বেশ কিছু গম্ভীর মামলায় আটক করা হয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক এর খুড়তুতো ভাই বিধান ভৌমিককে। ঘটনা রবিবার রাতের। অভিযোগ, বিধান কুমার ভৌমিক বেআইনিভাবে বাংলাদেশ গিয়ে বিয়ে করেছিলেন।
নিজের নাম পাল্টে ২০০১ সালে তিনি হয়ে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। বাংলাদেশের আঁখি বেগমকে বিয়ে করে সেখানে প্রায় দশ বছর থেকে বিধানবাবু ত্রিপুরায় চলে আসেন। আঁখি বেগম হয়ে যান আঁখি ভৌমিক। বিধানবাবু প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিকের আপন খুড়তুতো ভাই। বিধানবাবু এপারে এসে ২০১২ সালে যে আধার কার্ড বের করেছিলেন, তাতে প্রতিমাদেবীর বাবার নাম দেওয়া।
এই সবকিছু উল্লেখ করে আঁখিদেবী রবিবার শহরের মহিলা থানায় এফআইআর দায়ের করেন। বিধানবাবুকে সোমবার সকালে আদালতে তোলা হয়। প্রথমত, প্রতিমা ভৌমিকের নাম এবং তাঁর নিজের ভাইয়ের নাম নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে থানায় এফআইআর করেছেন চল্লিশ বছর বয়সী আঁখি ভৌমিক। প্রতিমা ভৌমিকের বাবার নাম ব্যবহার করে তাঁর খুড়তুতো ভাই বিধান কুমার ভৌমিক আধার কার্ড বানিয়েছেন বলে অভিযোগ।
প্রতিমাদেবীর আপন খুড়তুতো ভাই বেআইনিভাবে বাংলাদেশ গিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করেছিলেন। সেখানে জেল খেটেছেন। এপারে ফিরে এসে তিনি আবার হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন এবং স্ত্রীর অভিযোগ মোতাবেক, নিয়মিতভাবে পারিবারিক অশান্তি সহ বিবিধ অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত থাকে। হঠাৎ কি করে এতো কিছু প্রকাশ্যে এলো? ঘটনার সূত্রপাত উপরে উল্লেখিত এফআইআর’টি। পূর্ব আগরতলার মহিলা থানায় আঁখি ভৌমিক রবিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগে তিনি শেষ দিকে নিজের স্বামী সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে গিয়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন -আমার মৃত্যুর হুমকি দিতে থাকে আর আমায় বাংলাদেশে যাওয়ার কথা বলে।
সে আমায় বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন উপায়ে আক্রমণ চালায়। আমাকে আতঙ্কে রাখে। কেউ কিছু বলে না, সাহস করে না, কারণ সে প্রতিমা ভৌমিকের ভাই।” নিজের ইচ্ছায় বিধানবাবু সেদিন ধর্ম রূপান্তর করেন। বিয়ের পর বাংলাদেশেই সংসার শুরু হয় আঁখিদেবীর সঙ্গে। জন্ম নেয় পুত্রসন্তান। তার নাম রাখা হয় আরিফুল ইসলাম। প্রায় দীর্ঘ দশ বছর বাংলাদেশে দু’জনের সংসার চলে। দু’জনে মিলে এপারে চলে আসে।
এখানে আসার পর আরেক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। সালটা ২০১৩। তার নাম রাখা হয় আবৃত কুমার ভৌমিক। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিকের নাম নিয়ে দিনের পর দিন অত্যাচার চলতে থাকে আঁখিদেবীর উপরে। আঁখিদেবী লিখিত অভিযোগ করে বলেছেন, ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি সংসার থেকে বেরিয়ে পড়েন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে দিন যাপন চলতে থাকে। কোনওরকমের খরচাপাতি দেয় না স্বামী। তারপরেও নিয়মিতভাবে ছেলেকে মারধর এবং স্ত্রীকে অত্যাচারের পথ বেছে নিয়েছে বিধান কুমার ভৌমিক।
স্ত্রীর অভিযোগ, তার স্বামী কিছুদিন আগে তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে রাখে দীর্ঘক্ষণ। প্রায় প্রতিদিনই তাকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, মহিলা অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী বিভিন্ন অবৈধ কাজ এবং ব্যবসায় জড়িত। রবিবার দিনও মহিলার বাড়িতে গিয়ে বিধান মারধর করে এবং তাকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে।
রবিবার মহিলা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা হয়েছে বিধানের নামে। কেইস নং-২০২৫ ডব্লিউইএ ০৫৭। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮৫, ১০৯, ১১৭ (২) এবং ৩৫১ ধারায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা রাজ্যে।
