আগরতলা: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ছিলেন দেশের একতা, সংহতি ও অখন্ডতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। স্বাধীনতার পর দেশের একতা ও অখন্ডতা রক্ষার জন্য তাঁর অসামান্য অবদান স্মরনীয় হয়ে আছে। তিনি তাঁর দৃঢ়তার জন্য লৌহমানব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
আজ আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১ তম জন্মদিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় একতা দিবস অনুষ্ঠানের সূচণা করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে অঙ্গিকারপত্র পাঠ ও শপথ গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচণা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত ৫৬২টি রাজন্য শাসিত অঞ্চলকে ভারতের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এই দুরূহ কাজটি সম্ভব হয়েছিল সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের বলিষ্ঠ পদক্ষেপের জন্য।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিন এবং তাঁর দেখানো পথকে স্মরণ করতে ২০১৪ সাল থেকে ৩১ অক্টোবর দেশে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস পালন করা হচ্ছে। এই দিবস উদযাপনের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের জাতীয় সংহতিকে সুদৃঢ় করা ও দেশের অখন্ডতা রক্ষায় দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত বিশাল ও এক বৈচিত্রময় দেশ। দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য জীবনযাত্রার পার্থক্যের মধ্যেও বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের পরিচয় বহন করে। এই বৈচিত্রের মধ্যে একতাই আমাদের শক্তি। তাই দেশের ঐক্য অখন্ডতা রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর কাছে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের ঐক্য, সংহতি ও অখন্ডতা রক্ষায় অঙ্গিকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তপশিলি জাতি কল্যাণমন্ত্রী সুধাংশু দাস, বিধায়ক অন্তরা সরকার দেব, বিধায়ক মিনারানী সরকার, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে সহ অন্যান্য দপ্তরের সচিব, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসক ড. বিশাল কুমার সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ।
স্বাগত ভাষণ রাখেন যুববিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব তাপস রায়। অনুষ্ঠানের পর রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত হয় ইউনিটি রান। এই ইউনিটি রান স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান থেকে শুরু হয়ে উমাকান্ত মিনি স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। ইউনিটি রানে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিরাও অংশ গ্রহণ করেন।
