আগরতলা: ত্রিপুরা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। সড়ক যোগাযোগ, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, নগরোন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। সুশাসন ও প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরা। দেশের দ্রুত উন্নয়নশীল রাজ্যগুলির সঙ্গে এখন প্রতিযোগিতা করছে ত্রিপুরা।

                   
আজ খোয়াই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খোয়াই টাউন হলে খোয়াই জেলার অধীন একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। 
                    
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। আজ খোয়াইবাসীর জন্য এক উল্লেখযোগ্য দিন। সমাজ শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ দপ্তর, গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য বিধান দপ্তর, নগরোন্নয়ন দপ্তর সহ আরও অন্যান্য দপ্তরের উদ্যোগে ৭টি বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে ৮টি স্মার্ট ওপিডি কিড বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলছেন আমাদের এখন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত দিশায় আমাদের রাজ্য সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। আজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে সাবসিডি দিয়ে মর্চারি ভেহিক্যাল (মরদেহ বহনের গাড়ি) এর সূচনা করা হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির অনেকটা সুবিধা হবে। 

জিবি বা আইজিএম থেকে মরদেহ আনতে গেলে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায় শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির। সেক্ষেত্রে এখন থেকে আগরতলা থেকে খোয়াই মরদেহ নিতে হলে প্রতি ট্রিপে এক হাজার দিতে হবে। তবে অন্তদয় অন্ন যোজনা কিংবা এআইওয়াই পরিবারগুলিকে ৫০০ টাকা দিতে হবে। যা সত্যিই একটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আর কেউ যদি এটাও দিতে না পারে সেক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
                        আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ ৮ কোটি ৯ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা ভিত্তি স্থাপন হবে। এখন ত্রিপুরা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ সহ সবদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরা। গত অর্থ বছরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ১,৫০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছি। অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির মাধ্যমে ত্রিপুরার উন্নয়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস। সেই দিশায় সড়ক যোগাযোগ, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, নগরোন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন না হলে দেশ ও রাজ্য উন্নত হবে না। আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন চাই। আমরা চাই মানুষের মুখে একটু হাসি ফুটাতে। 
                       
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করা। আমাদের সরকার মনেপ্রাণে কাজ করছে। কাজের মূল্যায়ন কাজের মাধ্যমেই হবে। আমরা শুধু আগরতলা না, সমস্ত গ্রামে গঞ্জে, বাড়িঘরে সব জায়গায় উন্নয়ন চাই এবং সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুফল পৌঁছে যাক। আমাদের সরকার কর্মসংস্কৃতির পরিচায়ক। চলতি অর্থ বছরে আমি বিভিন্ন জায়গায় ২২৭ কোটি টাকার উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছি। আমরা রাজ্যে ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬ করেছি হাঁপানিয়ায়। আমরা ভেবেছিলাম সেখানে ৫০০'র মতো প্রতিনিধি আসবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে ১,২০০'র মতো প্রতিনিধি সামিল হয়েছিলেন। 
                       
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানে রাজ্যে জিএসডিপি দ্বিগুণ বেড়েছে এবং মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক বেশি উন্নত হয়েছে, পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। দেশের দ্রুত উন্নয়নশীল রাজ্যগুলির সঙ্গে এখন প্রতিযোগিতা করছে ত্রিপুরা। সুশাসন ও প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে আজ ত্রিপুরা এগিয়ে যাচ্ছে। ডিরেগুলেশন এন্ড কমপ্লায়েন্স ডিডাকশনে ত্রিপুরা দুবার প্রথম হয়েছে। গোয়া ও মিজোরামের পরে ত্রিপুরা এখন তৃতীয় পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য। জনজাতি অংশের ছেলেমেয়েদের উন্নত শিক্ষার জন্য একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল করা হয়েছে। প্রায় ২১টির মধ্যে ১২টি স্কুল শুরু হয়েছে। ৬টি চলতি বছর শুরু হবে। বাকিগুলোও শুরু হয়ে যাবে। এছাড়াও আরও ১৫টি একলব্য স্কুলের জন্য দিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছি। 

                      
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়, খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায় (দত্ত), বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথ শর্মা, খোয়াই জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা রজত পন্থ, খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার বি. জগদীশ্বর রেড্ডি সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *