আগরতলা: কৃষকদের জীবিকা শক্তিশালী করা এবং তাদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তর গন্ডাতুইসা মহকুমায় আরও ৩৪২ কানিতে আম চাষ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।আজ ধলাই জেলার গন্ডাতুইসা মহকুমার নারিকেলকুঞ্জতে মনসুন ম্যাঙ্গো ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ উদ্বোধন করেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন আমাদের রাজ্যের কুইন আনারস ইতিমধ্যেই বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছে। আমি বহু আম দেখেছি, তবে ডুম্বুর অঞ্চলের বিভিন্ন জাতের আম সত্যিই অসাধারণ। গন্ডাতুইসা ও ডুম্বুরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তুলতেই সরকার এই ম্যাঙ্গো ফেস্টিভ্যালকে আরও বিস্তৃতভাবে প্রচার করবে।তিনি আরও জানান, এলাকায় বহু উন্নত জাতের আম উৎপাদিত হচ্ছে এবং ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষকদের উৎসাহিত করতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে এবং পুরনো আম বাগান পুনরুজ্জীবনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত সেচ ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে।
আম চাষিদের সুবিধার্থে আরও পাঁচটি কোল্ড চেম্বার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন আমাদের লক্ষ্য কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা এবং তাদের সার্বিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। বর্তমানে প্রায় ২৫৯ জন কৃষক গন্ডাতুইসাকে আম চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছেন।ডুম্বুর অঞ্চল প্রসঙ্গে তিনি বলেন এখানে পর্যটনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। হোমস্টে সুবিধাও তৈরি হয়েছে।
সরকার চায় প্রতিটি পরিবারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে এবং ত্রিপুরাকে স্বনির্ভর রাজ্যে পরিণত করতে।তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতে বর্তমানে দুধ, মসলা, চাল, লঙ্কা, পাট, কলা ও আমের উৎপাদন বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে।গন্ডাতুইসার অতীত ও বর্তমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে এই অঞ্চলে যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সমস্যা ছিল, তবে গত আট বছরে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।মন্ত্রী কৃষকদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো জমি ফাঁকা না রেখে আম, আনারস, আদা, বার্ডস আই চিলি, কলাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ বাড়াতে হবে।
রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে ফল চাষ হয়, যার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টরে আম চাষ করা হয় বলেও তিনি জানান।তিনি আরও বলেন, রাজ্যে গড় আম উৎপাদন প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫ মেট্রিক টন হলেও গন্ডাতুইসায় তা ৯ মেট্রিক টন পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গন্ডাতুইসা ও ডুম্বুর অঞ্চল ভবিষ্যতে ত্রিপুরার কৃষি ও পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
