আগরতলা: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছে ত্রিপুরা সরকার। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকভাবে শক্তিশালী করা। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও ছেলেমেয়েদের নৈতিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে শিক্ষক শিক্ষিকাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আজ আগরতলার শঙ্করাচার্য বিদ্যানিকেতন গার্লস স্কুলে আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, স্কুলের আজকের এই দিনটির জন্য সবাই অপেক্ষা করে রয়েছেন। এই দিনটি শুধু ছাত্রছাত্রীদের জন্য নয়, যারা শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ও শিক্ষানুরাগী সহ অভিভাবকদের জন্যও এক বিশেষ আনন্দের দিন। শুধু বই পড়লে হবে না, ছেলেমেয়েদের শারীরিকভাবে দক্ষ হওয়া এবং কৃষ্টি সংস্কৃতি সম্পর্কেও বিশেষ ধারণা রাখতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা সরকার চেষ্টা করছে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের। কিছুদিন আগে প্রবাসী ত্রিপুরাবাসী শীর্ষক এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে দেশ বিদেশ থেকে প্রতিনিধিরা আসেন। যারা এই রাজ্যেরই সুযোগ্য সন্তান। তারা এখন নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। প্রায় ৮৫ জন সেই সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন। তাঁরাও ত্রিপুরার জন্য কিছু করার প্ল্যাটফর্ম খুঁজছিলেন। একজন আরেকজনকে টেনে উপরে তোলার মানসিকতার মাধ্যমে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তোলা সম্ভব। আর এই সম্মেলনের খবর জানতে পেরে অনেকেই ত্রিপুরায় আসার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আগামীতে ত্রিপুরাকে সারা দেশের মধ্যে একটি উন্নত ও মডেল রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে অন্যতম ভূমিকা নিতে পারেন তাঁরা।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা এমন একটা বিষয় যার মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। মূল্যবোধের শিক্ষা যার কাছে থাকবে সবাই তার কথা শুনেন। এজন্য যথাযথ শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও ছেলেমেয়েদের নৈতিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে তোলা প্রয়োজন। এজন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। শিক্ষা হচ্ছে অন্তহীন। এখনো আমাদের পড়াশুনা করতে হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিদিন পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। তাই নিজেদের আপডেট রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডাঃ সাহা বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকভাবে শক্তিশালী করা। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবরা এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একটা বিরাট শক্তি। এই মানব সম্পদ আমাদের ছেলেমেয়েরা। তাদের উপর ভিত্তি করে আগামীদিনে সারা বিশ্বে অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে ভারতবর্ষ। কাজেই তাদের ভবিষ্যতকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। আর জনসংখ্যার প্রায় ৫০% হচ্ছে মহিলা। আমাদের সরকার মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এখন রাজ্যে নবম শ্রেণীতে পাঠরতা ছাত্রীদের বিনামূল্যে বাই সাইকেল দেওয়া হচ্ছে।

উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ প্রায় ১৪০ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে স্কুটি প্রদান করা হয়েছে। সরকারি স্টল বণ্টনে মহিলাদের জন্য ৫০% সংরক্ষণ রাখা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের জন্য সংসদ ও বিধানসভায় ৩৩% আসন সংরক্ষনের জন্য বিল পাস করিয়েছেন। রাজ্যের সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলিতে ছাত্রীদের জন্য সব ধরনের ফি মুকুব করা হয়েছে। যাতে তারা আরো সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, অজ্ঞতা ও জ্ঞানের মাঝখানের সেতু হচ্ছে শিক্ষা। এর মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী ২০৪৭ এ বিকশিত ভারত গড়ে তোলার কথা বলছেন। সেই দিশায় আমরাও বিকশিত ত্রিপুরা ২০৪৭ এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত দিশায় আমরাও ত্রিপুরায় জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করেছি।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা অধিকর্তা এন সি শর্মা, পুর নিগমের কর্পোরেটর শম্পা সরকার চৌধুরী, রেডক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যান বিমল কান্তি রায়, স্কুলের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার দাস, স্কুলের প্রিন্সিপাল মৌসুমী ভট্টাচার্য, সমাজসেবী শ্যামল কুমার দেব সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *