আগরতলা।।সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আমতলী থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার ওএনজিসির জুনিয়র ফায়ারম্যান। জানা গেছে গত ২৩ শে মার্চ আমতলী থানার অন্তর্গত ওএনজিসি কলোনি এলাকার ৮ বছরের বিশেষভাবে সক্ষম এক নাবালিকা মেয়ে খেলতে খেলতে ওএনজিসির জুনিয়র ফায়ারম্যান পদে কর্মরত দ্বীপ গোলাপ দাস উরফে ডেভিডের ব্যক্তিগত গাড়িতে রং লাগিয়ে দেয়। যার ফলে দ্বীপ গোলাপ দাস ওরফে ডেভিড উত্তেজিত হয়ে নাবালিকা মেয়েটির গলা টিপে ধরে এবং নাবালিকাটিকে মারধর করে বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার পর নাবালিকা মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে আমতলী থানায় অভিযুক্ত ওএনজির জুনিয়র ফায়ারম্যান দ্বীপ গোলাপ দাস ওরফে ডেভিডের বিরুদ্ধে লিখিত মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর নাবালিকা মেয়েটিকে হাঁপানিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয় এবং হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় নাবালিকা মেয়েটির গলা টিপে ধরা হয় এবং তার পায়ের হাঁটুতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।পরে নাবালিকা মেয়েটির পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচারের আশায় রাজ্য শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশনেও লিখিত অভিযোগ জানায়। এরপরেই ঘটনার জল ঘোলা হতে থাকে।

একটি নাবালিকা মেয়ের সাথে এই ধরনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশ কমিশনের প্রাক্তন সদস্যা ডঃ এইচ কেরল ডিসুজাও স্পষ্টভাবে অভিযুক্ত ডেবিডকে গ্রেফতারের দাবি তুলেন। এরপর থেকেই আমতলী থানার পুলিশের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় অভিযুক্ত জুনিয়র ফায়ারম্যান দ্বীপ গোলাপ দাস ওরফে ডেভিডকে গ্রেফতারের জন্য। এরপর শুক্রবার রাতে তাকে আমতলী থানার পুলিশ আটক করলে।

ধৃত দ্বী গোলাপ দাস অসুস্থ বলে নতুন এক নাটক মঞ্চস্থ করে। এরপর আমতলী থানার পুলিশ তাকে তড়িঘড়ি হাঁপানিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পুনরায় তাকে আবার থানায় নিয়ে আসা হয়। যদিও ধৃত ডেভিডকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তার স্ত্রী সহ কয়েকজনকে দুর্ঝাপ করতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয় তাকে ছাড়িয়ে নিতে তার স্ত্রী অন্য এক অদৃশ্য শক্তি ও ব্যবহার করেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন লাভ হয়নি। এই ব্যাপারে আমতলী থানার পুলিশ ২৫/২০২৬ নম্বর অনুযায়ী ১২৬(২),১১৭(২),৩০৫(২),৩৫১(৩), এবং পক্সো আইনে মামলা নথিভুক্ত করে।

শনিবার দুপুরে দ্রুত দ্বীপ গোলাপ দাস ওরফে ডেভিডকে আদালতে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় ওএনজিসি কলোনি এলাকার মানুষকে বলতে শোনা গেছে এটুকু একটি নাবালিকা মেয়ের সাথে ওএনজির একজন কর্মীর এই ধরনের ঘটনা সংঘটিত করতে এক ফোটাও ভাবলো না! তাই এই ঘটনায় ধৃত ওএনজির জুনিয়র ফায়ারম্যান ডেভিডের কঠোর শাস্তির দাবি উঠছে।

এই ব্যাপারে শনিবার দুপুরে আমতলী থানার ওসি পরিতোষ দাস বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *