আগরতলা:গ্রামীণ ব্যাংকের সুষ্ঠু পরিবেশ, কর্মসংস্কৃতি, সুষ্ঠু বদলি নীতি সহ ১০ দফা দাবিতে যৌথ উন্নয়ন মঞ্চের উদ্যোগে শনিবার গ্রামীণ ব্যাংক সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত হয়। উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের নেতৃত্ব, সঞ্জয় দাস, অতনু ধর, সুদীপ সরকার, সুদর্শন মজুমদার সহ অন্যান্যরা।

মঞ্চের নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, ব্যাংকের উচ্চপদস্থ আধিকারি গন ব্যাংকের কর্মচারীদের সাথে অমানবিক আচরণ করে আসছে। তারা বিভিন্ন পর্যালোচনা বৈঠকে কর্মচারীদের হুমকি সুরে বলেন, সেলারি কেন নিচ্ছেন? চাকুরী ছেড়ে দিন , যখন খুশি তখন যেখানে খুশি সেখানে বদলি করে দেওয়া হবে। নেতৃত্ব আরো জানান, ২০২১ সাল থেকে সারা ভারতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অন্যায় আবদার, মানসিক নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকিং সেক্টরে কমপক্ষে ৩০০ ব্যাংক কর্মচারী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চাপ দিচ্ছে প্রতিদিন দশটি করে ইন্সুরেন্স করতে হবে। ত্রিপুরার জনগণ অর্থনৈতিক বিষয়ে ততটা অভিজ্ঞ নয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরো চাপ দিচ্ছে দশটি তৃতীয় পক্ষের প্রদো মিট বিক্রি করতেই হবে। যা ত্রিপুরার ব্যাংকের গ্রাহকদের কাছে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে তা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। নেতৃত্ব আরও বলেন চারটি সংগঠনের যৌথ মঞ্চের ১০ দফা দাবি নিয়ে গত এক বছর ধরেই আন্দোলন সংঘটিত করে আসছে।এই দাবিগুলি নতুন কোন দাবী নয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের সূরা আর পথে যাচ্ছেনা। নেতৃত্ব বলেন ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ইতিমধ্যেই কিছুদিন আগে পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন স্কিম গুলো গ্রামীণ ব্যাংক মানুষের কাছে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত একটা ভূমিকা রয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সকল কর্মচারী একটি পরিবারের মত। কিন্তু সেখানে যদি কাজ করার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকে, তাহলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যাগ সহ ত্রিপুরার সাধারণ মানুষের উপর আসবে। যেদিন থেকে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের অধীনে চলে যায় ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক সেদিন থেকেই কর্মসংস্কৃতির পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্যই এই আন্দোলন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নেতৃত্ব জানান যাতে কোন ধরনের অন্যায় অবিচারের এবং ন্যায্য দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন সংঘটিত না করা যায় তার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃত্বকে দূরদূরান্তে বদলি করে দিচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও নাবার্ডের তরফে বেশ কিছু জনমুখী প্রকল্প গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করে অনেকগুলো প্রকল্প আটকে রাখে।

তিনি বলেন মহিলা ব্যাংক কর্মচারীদের আইন অনুযায়ী সুবিধা প্রদান করতে হবে। নেতৃত্ব জানান এই সমস্ত দাবিগুলি নিয়ে সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে বসে সমাধান করার উদ্যোগ নেক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। না হলে আগামী ১৬ মার্চ ত্রিপুরা রাজ্যে গ্রামীণ ব্যাংক গুলিতে ধর্মঘট সংঘটিত হবে।নেতৃত্ব জানান,শনিবার রাজ্যের সমস্ত গ্রামীণ ব্যাংকের পরিষেবা স্বাভাবিক রেখেই যৌথ উন্নয়ন মঞ্চের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত করা হয়।তারপরও কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে এনে বিমাতৃ সুলভ আচরণ করেছে বলে অভিযোগ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *