আগরতলা: স্বচ্ছতা বজায় রাখার মাধ্যমেই মানুষের কল্যাণে কাজ করছে রাজ্যের বর্তমান সরকার। ছোট রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি প্যারামিটারে সঠিক দিশায় এগিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরা। সর্বভারতীয় স্তরে ৩৪৭টি পুরস্কার অর্জন করেছে ত্রিপুরা রাজ্য। যদিও রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন না বিরোধীরা।

আজ উত্তর জেলার ধর্মনগরে বিবিআই স্কুল মাঠে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত যুব শঙ্খনাদ কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

উত্তর জেলার যুব মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত এই কার্যক্রমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমার বন্ধুবর তথা ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ ছিলেন প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে সত্যিকারের অর্থে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাই আমি প্রথমেই প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেনের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করছি। তাঁর অর্ধসমাপ্ত কাজগুলি আমরা সবাই মিলে সম্পূর্ণ করবো। সেই প্রতিজ্ঞা নিতে হবে আমাদের। আমরা জানি উনি একজন বিশিষ্ট শিল্পীও ছিলেন। যাত্রা শিল্প ও নাট্য শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ধর্মনগরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ধর্মনগর ও উত্তর জেলাকে খুব ভালোবাসতেন তিনি। যার প্রতিফলন বিধানসভাতেও আমরা দেখেছি। ধর্মনগরকে কিভাবে আরো সুন্দরভাবে সাজানো যায় সেই চিন্তাভাবনা আমাদের করতে হবে। শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে সেটা করতে চাই আমরা।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ ত্রিপুরায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগে আগরতলায় যেতে হলে এসকর্ট ছাড়া যাওয়া যেতো না। সেই জায়গায় এখন ত্রিপুরা সহ গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলে শান্তি বিরাজ করছে। ডাঃ সাহা বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টিকে নিয়ে বিরোধী দলনেতা এখন অলীক স্বপ্ন দেখছেন। আর আমরা সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ নিয়ে থাকি। কাজের মাধ্যমে আমরা মানুষের কাছে যেতে চাই। কিন্তু তারা বসে থাকেন কবে আমাদের মধ্যে ঝগড়া হবে সেই আশায়। তারা স্বপ্ন দেখছেন ভারতীয় জনতা পার্টিকে সরিয়ে আবার বামফ্রন্ট সরকার গড়বেন। এজন্য তারা হাত মিলিয়েছেন যাদের (খুন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ) সঙ্গে তাদের ঝগড়া হয়েছে। তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করেছে তারা। কিভাবে সরকারে আসবে সেই চিন্তায় রাতের বেলা ঘুম হয়না। মানুষের জন্য কাজ করা নিয়ে চিন্তিত নয় তারা

সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা যিনি বর্তমানে তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজ্যপালের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁকে এবার মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল করা হয়েছে। তিনি যখন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ছিলেন তখন ফাইল ঘেঁটে দেখতে পান যে স্বর্ণ যুগের কান্ডারীরা আমাদের ঘাড়ে ১৩,০০০ কোটি টাকার ঋণ রেখে গেছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সর্বভারতীয় স্তরে ৩৪৭টি পুরস্কার অর্জন করেছে ত্রিপুরা রাজ্য। সারা ভারতবর্ষের মধ্যে ডি রেগুলেশন এন্ড কমপ্লায়েন্সে ত্রিপুরা প্রথম হয়েছে। এজন্য দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুখ্যসচিবদের বৈঠকে ত্রিপুরার প্রশংসা করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের অন্যান্য বড় বড় রাজ্যগুলিকে ত্রিপুরা থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন তিনি। ছোট রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও সঠিক দিশায় কাজ করছে ত্রিপুরা। কিছুদিন আগে দেশের মধ্যে তৃতীয় পূর্ণ সাক্ষর রাজ্যে হিসেবে ঘোষিত হয়েছে ত্রিপুরা। যা মিজোরাম ও গোয়ার পরে। সভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ হচ্ছেন মহিলা। কাজেই মহিলাদের উন্নয়ন না হলে রাজ্য ও দেশের উন্নয়ন হবে না। তাই তাদের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। আর সেই দিশায় কাজ করছে ত্রিপুরা সরকারও। জিএসডিপি ও মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। নীতি আয়োগ ত্রিপুরাকে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রতিটি প্যারামিটারে সঠিক দিশায় এগিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরা। যদিও বিরোধীরা রাজ্যের উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন না। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি মানেই উন্নয়ন। উন্নয়ন ছাড়া কোন কথা নেই। স্বচ্ছতা বজায় রাখার মাধ্যমেই মানুষের কল্যাণে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, উত্তর জেলার সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, বিধায়ক বিনয় ভূষণ দাস, বিধায়ক যাদব লাল নাথ, যুব মোর্চার প্রদেশ সভাপতি সুশান্ত দেব, ওবিসি মোর্চার রাজ্য সভাপতি মলিনা দেবনাথ, উত্তর জেলার সভাপতি কাজল কুমার দাস সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *