আগরতলা: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ বলেছেন যে ত্রিপুরা সংযোগ, ডিজিটাল শাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পর্যটন এবং বিনিয়োগে নতুন আস্থা নিয়ে এগিয়ে চলেছে৷

আজ দেশের উপ রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের উপস্থিতিতে মহারাজা বীর বিক্রম শতবার্ষিকী ভবনে ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস, যা একটি শুভ দিন। এ উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। আর একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতার যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে। এটি অধ্যবসায়, উৎসর্গ এবং শ্রেষ্ঠত্বের একটি উদযাপন।

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের রাজ্যের একটি ইনটেলেক্টচুয়াল লাইটহাউজ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে উপস্থিত উজ্জ্বল ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চেহারা দেখে আমার আত্মবিশ্বাসে বাড়িয়ে দেয়, কারণ আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যতই নয়, ত্রিপুরার প্রতিশ্রুতিশীল ভবিষ্যতের কথাও চিন্তা করি। আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবসম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। এর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ত্রিপুরার জনগণের একটি ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে, যারা বিশ্বাস করেছিল যে রাজ্যের মধ্যে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্র আগামী প্রজন্মের জন্য সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করবে।

আজ সেই দৃষ্টিভঙ্গি একটি প্রাণবন্ত একাডেমিক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যা শুধু ত্রিপুরা থেকে নয়, সারা দেশ থেকেও ছাত্রছাত্রীদের আকৃষ্ট করেছে। এমন একটা সময় ছিল যখন বাবা-মায়েদের ধারণা ছিল তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য ত্রিপুরা রাজ্যের বাইরে পাঠানো। যদিও সেই ঐতিহ্য কিছু ক্ষেত্রে বহাল রয়েছে। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাণবন্ত একাডেমিক সংস্কৃতি প্রসারের মাধ্যমে এখন বহিঃপ্রবাহকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। আমি জানতে পেরে আনন্দিত যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু আমাদের প্রতিবেশী উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি থেকে নয়, সারা ভারত থেকেও ছাত্রছাত্রী এবং গবেষকদের কাছে আকর্ষণ করছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি ভারত সরকারের উত্তর পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের (ডোনার) অষ্টলক্ষ্মী দর্শন মিশনে অগ্রসর হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করে অত্যন্ত আনন্দিত। দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে ছাত্রছাত্রীদের একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় সংহতিকে শক্তিশালী করেছে এবং আমাদের রাজ্যের বিপুল সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদকে উন্নীত করেছে। আমি এবিষয়ে তাদের নিবেদিত প্রচেষ্টার জন্য ফ্যাকাল্টি মেম্বার এবং ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানাই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি লক্ষণীয়। একটি আধুনিক এবং সু-সংযুক্ত ক্যাম্পাস, উন্নত গবেষণাগার, ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল সংগ্রহ সহ একটি গবেষণা এবং বহু সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, হোস্টেল সুবিধা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও একটি শক্তিশালী গবেষণা ইকোসিস্টেম মিলিতভাবে একটি সক্ষম পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিভা বিকাশে আরো সহায়ক হয়ে উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ত্রিপুরা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে একটি জ্ঞান-চালিত এবং দক্ষতা-ভিত্তিক রাজ্য গড়ে তোলা, যেখানে যুবরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং এবং শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করার উপর বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিয়েছে। ত্রিপুরা আজ কানেক্টিভিটি, ডিজিটাল গভর্নেন্স, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং বিনিয়োগে নতুন করে আস্থা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। যাইহোক, এই অগ্রগতির প্রকৃত ভিত্তি আমাদের মানব সম্পদের শক্তি এবং গুণমানের মধ্যে নিহিত।

আপনারা জানেন যে, ত্রিপুরা সরকার রাজ্যে আরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেগুলি সরকারি অর্থায়ন এবং বেসরকারি-অর্থায়নকৃত প্রতিষ্ঠান। যা আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ে তোলা এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জাতীয় লক্ষ্যে অর্থপূর্ণভাবে অবদান রাখার জন্য এটি আমাদের বৃহত্তর মিশনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ইন-চার্জ) প্রফেসর শামল দাস এবং রেজিস্ট্রার প্রফেসর সমীর শীল সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *