আগরতলা : ত্রিপুরা বিধানসভার বুধবারের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ‘অসংসদীয় মন্তব্য’কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বক্সনগরের বিজেপি বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন-এর করা মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধী ও শাসকপক্ষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অধ্যক্ষ নির্বাচনের পর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হতেই বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী দাঁড়িয়ে নবনির্বাচিত অধ্যক্ষের কাছে দাবি জানান, যাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার -এর বিরুদ্ধে করা ‘অসংসদীয়’ ও ‘ভিত্তিহীন’ মন্তব্য বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের অধিবেশনে তোফাজ্জল হোসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকা তছরুপসহ একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ তুলেছিলেন, যা বিরোধী সদস্যদের তীব্র ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে বিষয়টি উত্থাপন করতে গিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী সৌজন্য বজায় রেখে বলেন, “বিধায়ক হয়তো আবেগের বশেই এমন মন্তব্য করেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য হয়তো এমন ছিল না।” একইসঙ্গে তিনি অধ্যক্ষের কাছে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি বিবেচনার আর্জি জানান। এই প্রসঙ্গে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, সদ্য নির্বাচিত অধ্যক্ষ প্রথমে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের রেকর্ড শুনে নিশ্চিত হবেন, তারপরই সিদ্ধান্ত নেবেন মন্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না।
তিনি আরও বলেন, বক্সানগরে নদীর জমি দখল এবং বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি তোফাজ্জল হোসেন তুলেছেন, তা নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এদিকে, বক্সনগর এলাকার বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে পাল্টা অভিযোগ। জানা গেছে, একটি ছোট নদীর গর্ভ দখল করে সেখানে বেআইনিভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ওই একই বিধায়কের বিরুদ্ধেই।
সূত্রের দাবি, সোনাবাড়িয়া মহকুমার এক ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট এই বিষয়ে তদন্ত করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এসডিএম-এর কাছে। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—নদীর খাত দখল করে নির্মাণের ফলে ভবিষ্যতে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে অভিযোগ, এত গুরুতর রিপোর্ট জমা পড়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
আগামী ২৩ মার্চ তিনি বিধানসভায় এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন বলেও জানান। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে বিধানসভায় ‘অসংসদীয় মন্তব্য’ নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে নদী দখল ও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রশাসনিক রিপোর্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।
