আগরতলা :বাংলাদেশের চলমান অরাজক পরিস্থিতি, সংখ্যালঘু মানুষের উপর নৃশংস মৌলবাদী আক্রমণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে বুধবার পশ্চিম জেলা সিপিআইএম কমিটির উদ্যোগে আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত হয়।মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে পরবর্তী সময়ে একটি পথ সভায় মিলিত হয়।

বিকেলে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম সিপিআইএম জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাস, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী সদস্য মানিক দে সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। বাংলাদেশের মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে সিপিআইএম। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ, ইদানিং তিনজন যুবককে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমণ এবং শিল্প ও সাহিত্য ও সংস্কৃতি স্থাপত্যের উপর বর্বরতার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।

মানিক দে জানান ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তি বাংলাদেশে বর্তমানে খুবই সক্রিয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যারা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে তাদের মদত পুষ্ট হয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘু যারা তাদের উপর নির্যাতন চলছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের সব নাগরিকরা যুক্ত নয়। একটি শক্তি বাংলাদেশের নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে, তারা ধর্মের নামে ভাবাবেগ তৈরি করে, ধর্মীয় বিভাজনের একটা পরিবেশ তৈরি করেছে। সেই কারণে ধর্মীয় সংখ্যালঘু অংশের মানুষের জীবিকা আক্রান্ত, তাদের বাড়িঘর আক্রান্ত, বেশ কয়েকজন হিন্দু যুবককে হত্যা করা হয়েছে। এই বিষয়টা নিয়ে ভারত সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বামপন্থী দলগুলিও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বাংলাদেশের বাম গণতান্ত্রিক শক্তি যারা মৌলবাদের সহিংস্রতার বিরোধিতা করেছে সেটাকে ধর্মীয় মৌলবাদীরা সহ্য করতে পারছে না।

তাদের প্রতিষ্ঠান গুলির উপর আক্রমণ সংঘটিত করেছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় ধর্মীয় মৌলবাদ শক্তি সক্রিয়। যারা ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করে চলছে। সকল প্রকার ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বামপন্থীরা লড়াই করছে। বামপন্থীদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে বেঁচে থাকার জন্য বেকারের কাজ শ্রমিকের কাজ ও মজুরি বৃদ্ধি এবং কৃষকের স্বার্থ সহ সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থে লড়াই করা।

তিনি আরো অভিযোগ করেন বর্তমানে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার রয়েছে, তাদের অঙ্গুলী হেলনে এই ঘটনাগুলি সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া শক্তি গুলি থেকে সবাইকে অবিলম্বে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। সংগঠনের নেতাদের মতে, এই ধরনের আন্দোলন প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতি নিয়ে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখবে এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক সচেতনতা তৈরি করবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *