আগরতলা: বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের আলো পৌঁছে দেওয়া। শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের এক শান্ত, সবুজ ও সম্ভাবনাময় রাজ্য।

                   
আজ উদয়পুরের কিল্লা ব্লকের আঠারোভোলায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। 
                      
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, গোমতী জেলার কিল্লা ব্লকের আঠারোভোলায় ৫ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি আধুনিক অ্যাস্ট্রোটার্ফ সিন্থেটিক ফুটবল মিনি স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়াম নির্মাণের ফলে এলাকার ক্রীড়াপ্রতিভার বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং স্থানীয় ছেলেমেয়েরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে। 
                   
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং সেই শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। জনজাতি জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া রাজ্য ও দেশের প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সুপরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা না থাকলে শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই রাজ্য সরকার বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রাবাস নির্মাণ করছে। কিল্লা ব্লকের দশরথ দেব মেমোরিয়াল ইংলিশ মিডিয়াম মডেল স্কুল এবং দেবতা মুড়া হাইস্কুলে (দক্ষিণ বরমুড়া ভিসি) ৫০ আসন বিশিষ্ট একটি করে ছাত্রী নিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।

                   
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বে জনজাতি সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করে সন্ত্রাসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে বহু সংঘর্ষ ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে মুক্ত করে উন্নয়নের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনেছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুস্থ সমাজই উন্নত সমাজ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কিল্লা ব্লকের নিত্যবাজার এলাকায় রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের আওতায় ৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি আধুনিক ১০ শয্যা বিশিষ্ট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এর ফলে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য আর দূরে যেতে হবে না, গ্রামের কাছেই মিলবে গুণমানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা।
              
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগগুলি প্রমাণ করে যে সরকার শুধু প্রতিশ্রুতি দেয় না, বাস্তবায়নেও বিশ্বাসী। কিল্লা আজ আর শুধুমাত্র একটি এলাকা নয়, এটি উন্নয়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ক্রীড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য- এই তিন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠছে আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী ত্রিপুরা। তিনি কীর্তন সংস্কৃতির বিকাশে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গতকাল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কর্তৃক পেশ করা কেন্দ্রীয় বাজেটকে জনজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন। "সবকা সাথ, সবকা বিকাশ" নীতিকে সামনে রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

                    
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে নতুন করে ছয়টি জাতীয় সড়ক নির্মিত হয়েছে এবং রেল পরিকাঠামোর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ক্যাবিনেট বৈঠকে একাধিক নতুন প্রকল্প ও স্কিম অনুমোদিত হয়েছে। গড়িয়া পূজায় অতিরিক্ত একদিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং রাজ্যে আরও ১৫টি একলব্য মডেল স্কুল স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে "বিকশিত ত্রিপুরা" গড়ে তোলাই সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

                        
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, কিল্লা বি.এ.সি.-র চেয়ারম্যান বাগানহরি মলসম, সচিব ডা. কে. শশীকুমার, গোমতী জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলাশাসক সুভাষ আচার্য, পুলিশ সুপার ডা. কে. কিরণ কুমার, হদা অকরা বিপ্র কুমার জমাতিয়া, মনীন্দ্রমোহন জমাতিয়া সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। অনুষ্ঠানে 

কিল্লা ব্লকের কর্মচারিগণ মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে ৬০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচেরও উদ্বোধন করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *