আগরতলা: প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে। ত্রিপুরার প্রতিটা স্কুল থেকে এক্সেলেন্ট ছাত্রছাত্রী বের করা আনা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ আগরতলার ভট্টপুকুরস্থিত বাপুজি বিদ্যামন্দির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূমিপূজন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে বাপুজি বিদ্যামন্দির স্কুল আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করে। স্বর্গীয় নবীন চন্দ্র চক্রবর্তী এই স্কুলটি স্থাপন করার জন্য প্রায় ১ কানির মতো জায়গা দান করেছিলেন। আজ তাঁরই পরিবারের সদস্য দেবব্রত চক্রবর্তীকে এখানে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এধরণের বহু মানুষ রাজ্যে স্কুল তৈরির জন্য জমি দান করে গিয়েছেন। এই বাপুজি বিদ্যামন্দির প্রথমে প্রাইমারি স্কুল ছিল। পরে উচ্চ বুনিয়াদি স্তরে উন্নীত হয়। এই স্কুল স্থাপনের পেছনে বিশেষভাবে ভূমিকা ছিল ভূপেশ চক্রবর্তী, সুরিন্দ্র দাস, ইন্দ্র কুমার দাস, কার্তিক চক্রবর্তী সহ অন্যান্যদের। ১৯৬৮ সালে এই স্কুলটি হাই স্কুলে উন্নীত করা হয়। আর এই স্কুলটিকে এখন দ্বিতল ভবনে তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সব জায়গায় বলি ভূমিপূজনের বিষয়টি। মাতৃভূমির সঙ্গেই এই বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। যদিও আগের সরকার এসব বিষয়ে বিশ্বাস করতো না। কিন্তু আমাদের কাছে মাই সব। মায়ের কোলেই সবকিছুর সৃষ্টি। তাই মাকে প্রণাম করে স্কুল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়েছে আজও। ২০২৪ সালে এই স্কুলটিকে ইংরেজি মাধ্যমে উন্নীত করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই স্কুলে পাশের হার ১০০%। যা একটা খুবই ভালো লক্ষণ।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের নতুন ত্রিপুরা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। শিক্ষা ছাড়া চলবে না। শিক্ষার কোন শেষ নেই। সারা জীবন শিক্ষা নিতে হয়। সময়ের সাথে শিক্ষকদেরও নিজেদের আপডেট রাখতে হবে। আমরা চাই ত্রিপুরার প্রতিটা স্কুল থেকে যাতে এক্সেলেন্ট ছাত্রছাত্রী বের হয়। গতানুগতিকতার বাইরে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। সামাজিক ক্ষেত্রেও কোন সমস্যা হলে যখন কোন শিক্ষিত ব্যক্তি কোন কথা বলেন তখন মানুষও তার কথা শুনেন। অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ও অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের দিকে এবং প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে পারবো তখন নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। শিক্ষার মাধ্যমেই মনকে সেট করা যায়। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়টা নিজের উপরই নির্ভর করে।
আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার বলছেন শিক্ষা শুধু পাঠ্যবই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা যায় না। মূল্যবোধ, বিকাশ ও জাতি গঠনের হাতিয়ার হচ্ছে মূল শিক্ষা। যে শিক্ষা সমাজের কোন কাজে না আসে সেই শিক্ষার কোন মূল্য নেই। ছাত্রছাত্রীদের গুণগত মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি (জাতীয় শিক্ষা নীতি) চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জ্ঞান চর্চার উত্তরাধিকার ও আধুনিক বিজ্ঞানের সংযোগ করে এই নীতি চালু করেছেন তিনি। ত্রিপুরাতেও ইতিমধ্যে জাতীয় শিক্ষা নীতি কার্যকর করা হয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গৌরব ও ঐতিহ্য নতুন করে পুনরুদ্ধার করছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো জানান, শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজ্যে নিপুণ ত্রিপুরা চালু করা হয়েছে। যাতে ছাত্রছাত্রীদের সহায়ক হয়। বিদ্যাসেতু মডিউল কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে মিশন মুকুল, নিপুণ কর্ণার শুরু করা হয়েছে। শিশুদের জন্য টিচিং লার্নিং ম্যাটেরিয়াল এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সহর্স কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সুপার ৩০ প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। ছাত্রীদের বিনামূল্যে বাই সাইকেল প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পুর নিগমের কর্পোরেটর অভিজিত মল্লিক, শিক্ষা অধিকর্তা এন সি শর্মা, বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান তাপস ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সমাজসেবী অসীম ভট্টাচার্য, শ্যামল কুমার দেব ও সজল চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
