আগরতলা : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ ভারতেও! এবারে প্রভাব সরাসরি প্রত্যেক ভারতীয়ের রান্নাঘরে। ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। এক লাফে গৃহস্থালি ব্যবহারের ১৪ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ১৯ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ১১৪ টাকা।

নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। গৃহস্থালি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর উপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকেই। দৈনন্দিন রান্নাবান্নার জন্য এলপিজি গ্যাস এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য উপকরণ। ফলে হঠাৎ করে ৬০ টাকা দাম বৃদ্ধি পরিবারের মাসিক খরচে বাড়তি বোঝা তৈরি করবে।

অন্যদিকে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১১৪ টাকা বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন হোটেল, রেস্তোরাঁ, চা দোকানসহ বিভিন্ন ছোট ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের মতে, ইতিমধ্যেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। তার ওপর গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। অনেক ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে পারে খাবারের দামেও। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণের প্রভাবেই এলপিজি গ্যাসের দামে এই পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এই মূল্যবৃদ্ধি সংসারের ব্যয়ভার সামলানোকে আরও কঠিন করে তুলবে। সামাজিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির ফলে সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে। তাই সরকারের কাছে অনেকেই দাবি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি বা বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থা জোরদার করা হোক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় এর প্রভাব সমাজের বৃহত্তর অংশের উপর পড়বে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *