আগরতলা: রাজ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রের মান উন্নয়নে নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। এ সমস্ত পদক্ষেপের মধ্যে ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে অনেকগুলো উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এতে রাজ্যে ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আজ ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ত্রিপুরা স্টেট গেমস-২০২৬’র উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
মশাল প্রজ্জ্বলন ও বেলুন উড়িয়ে গেমসের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শরীর ও মনকে স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। দেশের মানব সম্পদের অন্যতম বৃহৎ অংশ ছাত্র-ছাত্রী ও যুবাদের পড়াশুনার পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রের সাথে যুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ জোড় দিয়েছেন।
এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ার লক্ষ্যে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ সহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারও এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে প্রথমবারের মত স্টেট গেমসের সূচনা হল। এই উদ্যোগ রাজ্যে ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা নিতে সক্ষম হবে। ত্রিপুরা স্টেট গেমস ক্রীড়া প্রতিভাদের দক্ষতা প্রদর্শনের এক উজ্জ্বল মঞ্চ। যা সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাবকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষতা ও শৃঙ্খলার সংস্কৃতিকে অনুপ্রাণিত করবে। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন ছাত্রছাত্রী ও যুবাদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে এই গেমস।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক মীনারাণী সরকার, ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুজিত রায়, প্রখ্যাত জিমন্যাস্ট পদ্মশ্রী দীপা কর্মকার, ক্রীড়া দপ্তরের সচিব পি কে চক্রবর্তী, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার, আসাম রাইফেলসের ডিআইজি ব্রিগেডিয়ার নিশান চন্দল, বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টের আইজি অলক কুমার চক্রবর্তী, ক্রীড়া দপ্তরের অধিকর্তা এল ডার্লং, ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সচিব এবং মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশের অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিগণ।
ত্রিপুরা স্টেট গেমস-২০২৬'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আসাম রাইফেলসের জওয়ানদের ব্যান্ড, ছাত্রছাত্রীদের মার্চপাস্ট ও শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে গেমসের সূচনা হয়। উল্লেখ্য, এই গেমসে রাজ্যের ৮ জেলার প্রায় ৩ হাজার ছেলেমেয়ে অংশ নিয়েছে।
