আগরতলা,:দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাও,সরকারের চরম শ্রমজীবী, কৃষক ও জনস্বার্থ বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের সাথে রাজ‍্যেও ধর্মঘটকে সফল করার আহ্বানে সি আই টি ইউ সহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এবং সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা সহ অন‍্যান‍্য গনসংগঠনের যৌথ উদ‍্যোগে আগরতলার রাজপথে মিছিলের আয়োজন করা হয়।এই মিছিল শহরের বিভিন্ন পদ পরিক্রমা করে ওরিয়েন্ট চৌমুহনীতে এক সভায় মিলিত হয়।

এই মিছিলে পা মেলান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান মানিক দে,কৃষক নেতা পবিত্র কর, শ্রমিক নেতা শংকর প্রসাদ দত্ত সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সভায় মানিক সরকার বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বিজেপি সরকার নয়া ফ্যাসিবাদী রাস্তা ধরেই এগুচ্ছে।গরিবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অল্প সংখ্যক মানুষের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করছে। গণতন্ত্রকে সংহার করছে। ত্রিপুরায় ভোটের অধিকার কে হরণ করেছে। ভোটকে প্রহসনে পরিণত করেছে। বিজেপি পছন্দমত নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছে। এখন দেশের সব রাজ্যে ত্রিপুরার মত রামের ভোট শ্যাম, শ্যামের ভোট যুদ এইরকম করে তারা জয় নিশ্চিত করবেন এই অবস্থা এখন নেই।

এই বিষয়ে উপলব্ধির মধ্যে আসার পরেই নির্বাচন কমিশনার কে ব্যবহার করে ভোটার তালিকা তাদের পছন্দমত তৈরি করার চেষ্টা করছে। এস আই আর এর নামে বিজেপি ও তার শরিক দল ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে, তার জন্য তাদের অপছন্দের লোকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে,আর তাদের পছন্দের লোকের নাম যে কোন পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্ত করার জন্যই এস আই আর নিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। তার মধ্যে বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম, তপশিলি জাতি, গরিব শ্রমিক কৃষক তাদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ এই শ্রেণীর মানুষ বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ।

তিনি আরো বলেন, সারা পৃথিবীতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শ্রমিক কর্মচারীরা ৮ ঘণ্টা কাজ করবে,৮ ঘন্টা বিনোদন করবে, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম করবে। এই নিয়ম সমাজ তান্ত্রিক দেশে তো বটেই এমনকি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতেও চালু আছে। কিন্তু এখন শ্রম কোডে বলা হয়েছে ১০ থেকে ১৪ ঘন্টা কাজ করতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের কাজের জন্য মজুরি দেওয়া হবে না। এই শ্রমকোর্ট বাতিল করা এবং অধিকার রক্ষার দাবিতে কয়েক মাস আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করার চেষ্টা করে বলা হয়েছিল,যদি এই শ্রম কোড চালু করা হয় তাহলে সারা দেশে আগুন জ্বলবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার দেশের শ্রমিক কৃষক শ্রমজীবী মানুষের কথা শুনলেন না।

তাই দেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং ফেডারেশন, কৃষক সংগঠন ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের আহবান করেছে।শ্রম কোডের মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে।শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিয়ে কথা বললে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত কর্পোরেটদের চাপের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় সরকার শ্রম কোড চালু করেছে। এই সরকার শ্রমিক কৃষক শ্রমজীবী মানুষের কথাই শুনতে চাইছে না। এই পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মানুষের সামনে বিকল্প পথ হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।এখন সময় প্রত্যাঘাতের। আক্রান্ত বিপর্যস্ত জাতি ধর্ম বর্ণের শ্রমিক কৃষক ঐক্যবদ্ধ ভাবে আক্রমণকারী এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত আনার জন্য রাস্তায় নামতে হবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ১২ ফেব্রুয়ারি এই ধর্মঘটের ডাক সারা ভারতের মানুষের সামনে দেওয়া হয়েছে। এই সরকারটা চালাচ্ছে আরএসএস এর নিয়ন্ত্রণে বড় বড় একচেটিয়া পুঁজিপতি নেতৃত্বে সাধারণ পুঁজিপতি এবং বড় কৃষকদের সমন্বয়ে এবং এর সাথে সাম্প্রদায়িক শক্তি।

এই ত্রিশক্তি বিশেষ করে হিন্দু মুসলমান অংশের মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরি মণ্ডল কে ধ্বংস করে শোষকদের স্বার্থ রক্ষা করবার জন্য এই সরকারের হাতকে মজবুত করার চেষ্টা করছে।এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ লড়াই সংগ্রাম। তাই সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরায় ও শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষ এবং গণতান্ত্রিক অংশের কর্মচারীদের এই ধর্মঘটকে সফল করতে এগিয়ে আসতে হবে।তার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘটের প্রচার মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। একটি ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে ই সমস্যার সমাধান হবে এই কথা ভাবলে ভুল হবে।

এই ধর্মঘট একটা মাইলস্টোন হয়ে দাঁড়াবে। আগামী দিনের আরো বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এই ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে তৈরি হতে হবে বলে জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শংকর প্রসাদ দত্ত, রঘুনাথ সরকার, মিলন বৈদ্য সহ অন্যান্যরা

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *