আগরতলা ।। অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স ও তহবিল থেকে প্রায় ৭.৭৫ কোটি টাকা তছরুপ ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই অভিযোগে মন্দিরের আটজন নগদ-গণনাকারী কর্মীর বিরুদ্ধে জড়িত থাকার দাবি উঠেছে।
এই ইস্যুকে সামনে রেখে মঙ্গলবার আগরতলার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে প্রদেশ কংগ্রেস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) সদস্য তথা কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা।সাংবাদিক সম্মেলনে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় আসার পর রাম মন্দির তৈরির জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি।
পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী একটি ট্রাস্ট কমিটি গঠন করা হয়। তারপরেই রাম মন্দিরের নির্মাণ স্থলের জায়গা কেনার জন্য এই ট্রাস্ট কমিটি ময়দানে নামে। পরবর্তী সময়ে ২ কোটির জায়গা ২৪ কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করে প্রথম থেকেই দুর্নীতি চলে আসছিল। তারপর রাম মন্দিরের নির্মাণকার্য শুরু হয়। সেখানে সারা ভারতবর্ষে সনাতনী ধর্মের লোক তাদের যার যতটুকু সামর্থ্য সেখানে দান করেন। রাম মন্দিরের কাঠামো তৈরিতেও দুর্নীতি করা হয়েছে।
তারপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে শংকরাচার্যের মতন লোকদের বাদ দিয়ে রামলালার মূর্তি স্থাপন করা হয়। আশ্চর্যের ব্যাপার তারপর থেকেই রাম মন্দিরের দানকৃত অর্থ এবং দানকৃত রূপা ও স্বর্ণালংকার চুরি করা শুরু হয়। ২০২৬ সালের ৫ই মার্চ এসবিআই থেকে রাম মন্দিরের ট্রাস্ট কমিটিকে জানানো হয় যে সেখানে কিছু দুর্নীতি করা হচ্ছে বলে তাদের কাছে খবর রয়েছে। কিন্তু রাম মন্দির নির্মাণ ট্রাস্ট এসবিআই এর এই খবর উড়িয়ে দেয়। ৫ জুন ২০২৬ রাম মন্দির ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য চম্পদ রায়ের বাড়ি থেকে ৮২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। স্বভাবতই মন্দির ট্রাস্ট কমিটি এফআইআর দায়ের করার কথা ছিল। কিন্তু এই এফআইআর দায়ের করা হলো ২৬ জুন ২০২৬।
অর্থাৎ মাঝখানে ২৫ দিন সময় দেওয়া হলো যাতে এই লুটেরেরা রাম মন্দির থেকে যা লুট করেছে তা সরিয়ে নিতে পারে। এফ আই আর দাখিল হলো ঠিকই কিন্তু তাতে কোন ট্রাস্ট কমিটির সদস্যের নাম দেওয়া হয়নি। তাতেই পরিষ্কার বুঝা যায় যে এই লুটতরাজের পিছনে যারা রয়েছে তাদেরকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই রাম মন্দির শুধু ভারতীয় জনতা পার্টির নয় সারা ভারতবর্ষের সনাতনী ধর্মের প্রতি যাদের আস্তা রয়েছে তাদের একটি নির্ভরযোগ্য স্থল সেখানেও ঘোটালা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি ও আরএসএস। তিনি বলেনঅযোধ্যার রাম মন্দির সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার ধর্মের নামে দুর্নীতি করছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজ্যবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, এই ইস্যুতে কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামবে।।
