আগরতলা : অবশেষে শেষ হলো ত্রিপুরার রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই – ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ (TTAADC) অধীন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোট গণনা। রবিবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ৪৪টি ব্লকের ৪৫টি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে গণনা শুরু হয়।
রাত ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র এককথায় তিপ্রা মথা-ময়।
এক নজরে সামগ্রিক ফলাফল
এবারের নির্বাচনে মোট আসন ছিল ৪৫৯৪টি। রাত ১১:৪০ পর্যন্ত ৪৩৬৬টি আসনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে, এখনও ২২৮টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি।
রাজনৈতিক দল প্রাপ্ত আসন
TMP (তিপ্রা মথা) ৩৩২২ টি
BJP (বিজেপি) ৭৬৭ টি
নির্দল ১৬৫ টি
CPI(M) ৬৯ টি
IPFT ৩৩ টি
INC (কংগ্রেস) ১০ টি
অর্থাৎ ঘোষিত আসনের প্রায় ৭৬ শতাংশ আসন একাই দখল করেছে তিপ্রা মথা। বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও ব্যবধান আকাশ-পাতাল। বাম-কংগ্রেস কার্যত খাতাই খুলতে পারেনি এডিসি এলাকায়।
এই সুনামির সবচেয়ে বড় উদাহরণ মোহনপুর মহকুমার লেফুঙ্গা ব্লক। এই ব্লকের অধীন ১০টি ভিলেজ কমিটির ৮০টি আসনে বিজেপি, সিপিআইএম, কংগ্রেস সহ কোনো বিরোধী দলই মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন তিপ্রা মথা মনোনীত ৮০ জন প্রার্থী।
আজ লেফুঙ্গা কমিউনিটি হলে এই ৮০ জন জয়ী প্রার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ের সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডিসির নবনির্বাচিত মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য তথা যুব নেতা রুনিয়েল দেববর্মা, ব্লক সভাপতি দীপক দেববর্মা এবং রিটার্নিং অফিসার প্রসেনজিৎ ভৌমিক। স্থানীয়দের মতে, এটি রুনিয়েল দেববর্মার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও জনজাতি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতারই ফসল। অনুষ্ঠানে বুবাগ্রা প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মাকে ধন্যবাদ জানান সিইএম।
গণনাকে ঘিরে রক্ত – চাম্পাহাওরে উত্তেজনা
ভোটের এই উৎসবের মধ্যেই কালো দাগ হয়ে থাকল খোয়াই জেলার চাম্পাহাওর। তুলাশিখর ব্লকের চাম্পাহাওর গণনা কেন্দ্রে গণনাকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত ও বচসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হন ৫৭ বছর বয়সী মতিলাল কর্মকার, পিতা বিশ্ব কর্মকার, বাড়ি লাঠিবাড়ি। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে জিবি পন্ত হাসপাতালে রেফার করার সময় তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং লাঠিচার্জের সঙ্গে তার সরাসরি যোগ নিয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে।
কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এসেছে। তবে সামগ্রিকভাবে বলা যায়, এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে তিপ্রা মথার এই ঐতিহাসিক জয় ২০২৬-এর আগে ত্রিপুরার জনজাতি রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করল।
