আগরতলা: প্রত্যেক পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানুষের কল্যাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা এবারের বাজেটে প্রত্যক্ষ হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুণগত মানের শিক্ষা প্রদানের জন্য বাজেটে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

                                 আজ ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ কার্যালয়ে দেশের সাধারণ বাজেট সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
                            সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এখানে সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গতকাল কেন্দ্রীয় বাজেট সম্পর্কে আপনাদের মাধ্যমে সমস্ত ত্রিপুরাবাসীকে অবগত করা। গতকাল মাঘ পূর্ণিমা দিনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় ২০২৬ - ২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন, যা আমরা সকলেই টিভির পর্দায় দেখেছি। এনিয়ে তিনি ৯ বারের মতো বাজেট পেশ করেছেন। প্রায় ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট বাজেট বক্তব্য রেখেছেন তিনি। আর এই বাজেট সংসদে ৮০তম বাজেট। এই বাজেট নিয়ে আমি খুবই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে বিকশিত ভারত ২০৪৭ এর সময়সীমা দিয়েছেন, এই বাজেটে সেটার ঝলক প্রত্যক্ষ হয়েছে। এই বাজেটে আগামীদিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য প্রতীয়মান হয়েছে। এরজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে ধন্যবাদ জানাই। 
                           মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্যাপিটেল এক্সপেনডিসারের উপর খুব জোর দেওয়া হয়েছে। আগামীদিনের কানেক্টিভিটি, লজিস্টিক ও নগরোন্নয়নে এই বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেছেন যে ভারতের অর্থনীতি এখন খুব মজবুত। অর্থনীতি মজবুত রয়েছে বলে আমাদের দেশ এখন সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা হচ্ছে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। গতকালের বাজেটে সেটা স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস আমরা বাজেটে দেখতে পেয়েছি। প্রত্যেক পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও প্রত্যেক মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এই বাজেটে প্রত্যক্ষ হয়েছে। এবারের বাজেট কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের বাজেট। প্রধানমন্ত্রী সবসময় চারটি শ্রেণীর কথা উল্লেখ করছেন - যুবা, কৃষক, গরীব ও মহিলা। এই চারটি শ্রেণীর উপর ভিত্তি করে এবারের বাজেট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মানুষের কল্যাণে চিন্তাভাবনা এবারের বাজেটে প্রত্যক্ষ হয়েছে। 
                             মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, কৃষকরা যাতে তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় সেটা সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষি পরিকাঠামো যাতে আরো শক্তিশালী হয় সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবায় যাতে সকল নাগরিককে সাশ্রয়ী মূল্যে হেল্থ কভারেজ দেওয়া যায় সেটাও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেন্টাল হেল্থ ও ট্রমা সেন্টারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরাও ত্রিপুরায় প্রায় সবকটি জেলায় ট্রমা সেন্টার স্থাপন করেছি। এবারের বাজেটে এর উপর গুরুত্ব দেওয়ায় এখন আমরা ট্রমা সেন্টারগুলিকে আরো শক্তিশালী করতে পারবো। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনকে আরো শক্তিশালী করতে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্যান্সারের ১৭টি ঔষধ এবং বিরল রোগের ঔষধ সস্তা করা হয়েছে। 
                            মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, গুণগত মানের শিক্ষা (স্কুল, কলেজ, টেকনিক্যাল কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) প্রদানের জন্য বাজেটে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক, রেল, বিমান, ওয়াটার ওয়ে এর উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়নকে শক্তিশালী করার জন্য অনেক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নবীকরণ যোগ্য শক্তি ব্যবহার বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দূষণ কমানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এবারের বাজেটে মধ্যবিত্তদের জন্য কর ব্যবস্থায় অনেক ছাড় রাখা হয়েছে। করদাতাদের বিভিন্ন উন্নত পরিষেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন সংস্কার আনা হয়েছে। এই বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতকে আরো শক্তিশালী করতে প্রচুর পরিমাণে আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 
                           মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে মূল তিনটি স্তম্ভের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমে রয়েছে সমাজের প্রান্তিক স্তর পর্যন্ত উন্নয়ন, দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়ন। তৃতীয় ধাপে রয়েছে সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস। সেই সঙ্গে ৬টি বিষয়ের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বাজেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলনে অবহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

                             এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, ইন্টেলেক্টচুয়াল সেলের কনভেনর ড. জহরলাল সাহা, সিপাহীজলা জেলার জেলা সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, মিডিয়া ইনচার্জ সুনীত সরকার সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *