আগরতলা:বি ভি জি রাম জি প্রকল্প বাতিল করে মন রেগা পুনর্বহালের দাবিতে রবিবার আগরতলা সার্কিট হাউস স্থিত গান্ধী মূর্তির পাদদেশে গন অনশনে বসে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, সভাপতি আশিষ কুমার সাহা সহ অন্যান্যরা।

সুদীপ রায় বর্মন বলেন, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মন রেগাকে মহাত্মা গান্ধী এমজি এন্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট কে পুনরায় চালু করার দাবি নিয়ে সারা দেশব্যাপী এক দিবসীয় অনশন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের কাজের অধিকার কে যেভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যেভাবে মানুষের নায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এবং রাজ্যের উপর অতিরিক্ত বুঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে দেশের গ্রামীণ গরিব শ্রমিকদের কাজের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস দল মনে করে একটা মানুষের অধিকারের উপর আঘাত। নতুন আইন বি ভি জি রাম জি আইন কে বাতিল করে পুনরায় এম জি এন রেগাকে চালু করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন মন রেগা আইনে ছিল যদি কোন শ্রমিক কাজ না পেত তাহলে তার পরিবর্তে তাকে ভাতা দেওয়া হতো।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা এ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের উদ্যোগে দেশব্যাপী মন রেগা বাচাও সংগ্রাম কর্মসূচি হিসেবে ৪৫ দিনের কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছে। ত্রিপুরা রাজ্যের নয়টি সাংগঠনিক জেলায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের সময়ের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সোনিয়া গান্ধীর অনুপ্রেরণায় সারাদেশে এই আইন চালু হয়। এই আইনের মাধ্যমে ১০০ দিনের গ্যারান্টি যুক্ত কর্মসংস্থান গ্রামীণ এলাকায় গরিব মানুষের জন্য কাজের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। মানুষের যে কাজের অধিকার এবং দেশের সম্পদ তৈরি করার ক্ষেত্রে এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

গত লোকসভার অধিবেশনে বর্তমান দেশের সরকার এই আইন বাতিল করে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর মহান নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়। যা আজও স্বাধীনতোর দেশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। গণতন্ত্র অহিংসা ও ধর্মনিরপেক্ষতার যিনি মূল স্থপতি আজকে এই আইন থেকে মহাত্মা গান্ধীজীর নাম বাতিল করে দিয়ে সারাদেশ কে অপমান করা হয়েছে।

সারা বিশ্বে গান্ধীজীর নাম কে কলঙ্কিত করা হয়েছে। এটা বিজেপি ও আরএসএসের ষড়যন্ত্র। আর এস এস এর মনোবাসনা দেশের মানুষের সামনে এসেছে। তিনি আরো বলেন,গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকারের আমলে চালু হওয়া মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্পের নাম পরিবর্তন নিয়ে তীব্র আপত্তি জানাল কংগ্রেস।এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকল্পটির মৌলিক ভাবনা ও অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেতৃত্ব।বক্তারা জানান,এম জি এন রেগা শুধুমাত্র একটি প্রকল্প নয়,এটি গ্রামীণ মানুষের অধিকার। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে তার গুরুত্ব ও প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর ফলে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে কংগ্রেসের দাবি। কংগ্রেসের মূল দাবি—এম জি এন রেগা প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জনগণকে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।এরই প্রেক্ষিতে এদিন ঊনকোটি জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে কৈলাসহরে জেলা কংগ্রেস ভবনের সামনে চার ঘন্টার প্রতিকী উপবাস আন্দোলনে সামিল হয় জেলা কংগ্রেস।উপস্থিত ছিলেন পরিষদীয় দলনেতা তথা স্থানীয় বিধায়ক বিরজিত সিনহা,জেলা কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ বদরুজ্জামান, কংগ্রেস নেতৃত্ব রুদ্রেন্দু ভট্টাচার্য, রুনু মিয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। কাজের কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরী ও জবাবদিহিতার অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিতে এবং এমজি এন রেগা প্রকল্পের নাম থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে ফেলার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদে রবিবার উদয়পুর জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে জেলা কংগ্রেস ভবনের সামনে প্রতিকী অন্বেষণ অনশন কর্মসূচি পালিত হয়।

উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি টিটন পাল, প্রদেশ কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক মিলন কর, আর কে পুর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি রনজিৎ দেবনাথ, মাতাবাড়ি ব্লক কংগ্রেস সভাপতি জয় দেব কান্তি রায়, জেলা মাইনরিটি কংগ্রেস সভাপতি রুশন মিয়া সহ জেলা ও ব্লক স্তরের একাধিক কংগ্রেস নেতা কর্মীরা। এদিকে ধলাই জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আম বাসায় জেলা কংগ্রেসের সামনে এই অনশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি নিধু মারাক, দলের প্রাক্তন বিধায়ক দিবা চন্দ্র রাঙ্গল, কংগ্রেস নেতৃত্ব মানিক ভট্টাচার্য সত্যব্রত দেব রায়, কৃপেশ রায়, মানিক দেব সহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার মন রেগা আইন বাতিল করে নতুন আইন চালু করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই নতুন আইনের ষাট শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার বহন করবে এবং ৪০ শতাংশ অর্থরাজ্য সরকার বহন করবে। কোনভাবেই রাজ্য সরকার বহন করতে পারবে না এই অর্থ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *