আগরতলা:বিজেপিকে পরাস্ত করতে হলে ভোট বিভাজনকে রোধ করতে হবে। তাই শাসকদল বিজেপিকে পরাজিত করার জন্য অন্য বিরোধীদের এগিয়ে আসা উচিত। সোমবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বললেন স্বদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা।

২০২৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএম এবং কংগ্রেস আসন ভাগাভাগি করে ভোটের লড়াই করেছিল। সেই নিরিখে ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্ব বন্ধু সেনের প্রয়াণে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কোন কেন্দ্রের বিধায়কের মৃত্যুর পর ছয় মাসের মধ্যে সেই বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই নির্বাচন কমিশন ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন, ২৩ এর বিধানসভা নির্বাচনে আসুন ভাগাভাগিতে ধর্মনগরে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছিল।

তোর স্বাভাবিকভাবেই সেখানে আবারো উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে। এই বিষয়ে তিনি সিপিআইএম সহ বিরোধীদল গুলির কাছে অনুরোধ করেন তারা যেন কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেন। আমাদের সভাপতি আরো বলেন, দেশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বক্সনগর, ধর্মপুর ও রামনগরে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে সি পি আই এম প্রার্থী দিয়ে ছিল।কংগ্রেস সমর্থন করেছিল। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই টাকে শক্তিশালী করার জন্য নিশ্চয়ই সকলে এগিয়ে আসবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, মন রেগা আইন পুনর্বহালের দাবিতে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি লোক ভবন অভিযান সংঘটিত করবে কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই জেলাস করে কর্মসূচি পালিত হয়েছে।এদিন রাজ্যপালের নিকট একটি স্মারক লিপি তুলে দেওয়া হবে।লোক ভবন অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা গুলি সামনে তুলে ধরা হবে।

তিনি আরো বলেন, এই অভিযান আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যেহেতু ভারত এবং আমেরিকা যে বাণিজ্য চুক্তির ফলে সারা দেশে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে একটা আশঙ্কা এবং বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যার সম্মুখীন হবে দেশের অধিকাংশ শ্রমজীবী এবং কৃষিজীবী মানুষ। এই বাণিজ্য চুক্তিতে যে বিষয়গুলিতে সবচেয়ে বেশি ভারতবর্ষের মনের শঙ্কা তৈরি করেছে, তা হল কৃষি ক্ষেত্রে ভারতীয় বাজার আমেরিকার কৃষি উৎপাদক দের জন্য খুলে দেওয়া হবে।দেশের গ্রামের মানুষ ৬৫ শতাংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল।কৃষকরা কৃষি জাত পণ্য শিল্পক্ষেত্রে প্রসার ঘটিয়ে তার উৎপাদনে কাঁচামাল সহ অন্যান্য দ্রব্য সরবরাহ করে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সঠিক মূল্য ও রপ্তানি করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেবে। এই বিলে আমেরিকা থেকে পণ্য আমদানি করতে শূন্য শতাংশ শুল্ক সংস্থা রাখা হয়েছে।আর ভারতীয় যে সমস্ত পণ্য আমেরিকায় যাবে সেখানে ১৮% শুল্ক প্রদান করতে হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বলেন , বিদেশ থেকে ভারতের খনিজ তেল কেনার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নীতি কথা বলছে তাতে ভারতের অনেক ক্ষতি হতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *