আগরতলা :আসন্ন পুর নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্যে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন আগামীকাল শুক্রবার ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টায় নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে চলেছে। তার আগেই ঘর গোছাতে মরিয়া সব রাজনৈতিক দল।
তবে এই দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে শাসক দল বিজেপি।পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে দফায় দফায় বৈঠক সারছে প্রদেশ বিজেপি। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে চলছে ম্যারাথন আলোচনা।
সূত্রের খবর, আগরতলা পুর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ড সহ ১৩টি পুর পরিষদ এবং ৭টি নগর পঞ্চায়েতের প্রার্থী তালিকা মোটামুটি চূড়ান্ত করে ফেলেছে গেরুয়া শিবির।বিজেপির কাছে সবচেয়ে প্রেস্টিজ ফাইট আগরতলা পুর নিগম। ৫১ ওয়ার্ডের এই নিগম দখলে রাখতে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ পদ্ম শিবির। আর সেখানেই আসতে চলেছে বড় চমক।দলীয় সূত্রে খবর, এবার বহু বিদায়ী কর্পোরেটরই টিকিট পাচ্ছেন না।
এর পিছনে রয়েছে একাধিক কড়া মাপকাঠি –সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জনবিচ্ছিন্নতা: বহু কর্পোরেটর নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ ওয়ার্ডে আর পা রাখেননি বলে অভিযোগ। জনসম্পর্কে ঘাটতি।উন্নয়নে ব্যর্থতা: নিজ এলাকায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন অনেকেই।দুর্নীতির অভিযোগ: বেশ কয়েকজন কর্পোরেটরের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে দলের কাছে।স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে জোর: দল এবার ক্লিন ইমেজকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
যাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদেরকেই প্রার্থী করা হবে।এক কথায়, পারফরম্যান্সই এবার টিকিট পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি।শুক্রবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পি কে চক্রবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে পুর ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতেই রাজ্য জুড়ে প্রচারের পারদ চড়বে। বিভিন্ন দল একে একে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে শুরু করবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের পুর ভোট শুধু স্থানীয় ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ২০২৮-এর বিধানসভা ভোটের আগে এটা হবে শাসক-বিরোধী উভয়ের কাছেই শক্তি পরীক্ষা। আগরতলা পুর নিগম ধরে রাখা বিজেপির কাছে যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিরোধীদের কাছে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।
