ওয়েব ডেস্ক জনদর্পন।। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর লালকেল্লায় ধ্বনিত হল জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’। এ বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই জাতীয় গীতকে। ঐতিহাসিকভাবে এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে লালকেল্লায় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হল।

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ইতিহাস রচিত হলো। লালকেল্লার প্রাচীর থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে শনিবার লালকেল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হল গোটা দেশ।

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার ১৫ অগাস্টের মূল কর্মসূচিতে জাতীয় গান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।অনুষ্ঠানে এনসিসি ক্যাডেট এবং ‘মাই ইন্ডিয়া’র স্বেচ্ছাসেবকরা ‘বন্দে মাতরম’ গেয়েছিলেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হয়। প্রায় ২৫০০ তরুণ-তরুণী জ্ঞানপথে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা একটি বিন্যাসও তৈরি করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণের আগে ক্যাম্পাস জুড়ে ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়।লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার ১৫ অগাস্ট লালকেল্লা থেকে ‘বন্দে মাতরম’ বেজে উঠল। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বার্ষিকীও পালিত হচ্ছে।

সম্প্রতি, জাতীয় গানটি জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা পেয়েছে। এর আগে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো হয়েছিল।৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মূলভাব ছিল ‘২০৪৭-এ উন্নত ভারত’ এবং এতে যুবশক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী টানা ১৩তম বারের মতো লালকেল্লা থেকে তেরঙা পতাকা উত্তোলন করেন এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।আর সেই ভাষণেই তিনি দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের জন্য বিরাট টার্গেট সেট করেছেন।

নয়াদিল্লিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়া। সেই মতো ট্যালেন্ট খোঁজার কাজ শুরু হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্যালেন্ট খোঁজার কাজ চলবে…ভারতের অলিম্পিক প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ভারত সরকার। সেই মতো দেশজুড়ে প্রতিভা খুঁজে আনার কর্মসূচি চালুর কথাও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই ছোটবয়সে সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের চিহ্নিত করা হবে। তারপর তাঁদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে।

সেই সঙ্গে উন্নত পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।মোদী জানান, ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রকে আরও বড় করে তুলতে হবে। ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে যাতে দেশের ক্রীড়াবিদরা বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, সেজন্য তাঁদের আগেভাগে প্রস্তুত করতে হবে২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসমাথায় রাখতে হবে, ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর তার ঠিক ৪ বছর আগেই ট্যালেন্ট খোঁজার কর্মসূচি ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

২০৩০ সালে গুজরাতের আহমেদাবাদে বসবে এই প্রতিযোগিতার আসর। ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে আয়োজক দেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। এটি হবে কমনওয়েলথ গেমসের শতবর্ষের বিশেষ সংস্করণ।আর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন হতে চলেছে ভারতে। এর আগে ২০১০ সালে নয়াদিল্লিতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

২০৩০ সালের গেমসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া বিভাগকে গুরত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খেলাকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমেই ভারতের পদক জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে চাইছেন মোদী।

images courtesy copy from Google images

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *