আগরতলা: উন্নয়ন ও উন্নত পরিষেবার সাথে সমাজের প্রতিটি মানুষকে যুক্ত করাই সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। সেজন্য রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে সরকার উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ণ করে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন পরিষেবা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিচ্ছে।

         
আজ প্রতাপগড়ে আগরতলা পুরনিগমের ৪৩নং ওয়ার্ডের নবনির্মিত দ্বিতল ওয়ার্ড অফিসের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্ন সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিয়ে উন্নয়নের কাজকে ত্বরান্বিত করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রতিটি এলাকায় অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে আগরতলা শহর এলাকায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পর্কিত অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয়জল মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়া ছাড়াও, রাস্তাঘাট মেরামত ও নির্মাণ, শহরের ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নতিকরণ, পাকা ঘর প্রদান, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, চিকিৎসা পরিষেবা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমুত ২.০ প্রকল্পে ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশুদ্ধ পানীয়জলের পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে। আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের জন্য ৪৮টি ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, আরও দুটি ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। পুরনিগম এলাকায় চালু হয়েছে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতাল।


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আম্রুত ২.০ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার পরিবারে বিশুদ্ধ পানীয়জলের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আম্রুত ৩.০ প্রকল্পে আরও একগুচ্ছ কর্মসূচি রূপায়ণ করা হবে। তিনি বলেন, ৫৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে স্মার্ট সিটি মিশনের আওতায় সমগ্র আগরতলা শহরে ৬৫টি প্রকল্পের কাজ রূপায়ণ করা হয়েছে। সরকার আগরতলা পুরনিগম এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আগরতলা শহর এলাকার সৌন্দর্যায়ণেও গুরুত্ব দিয়ে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ণ করে চলেছে। পুরনিগম এলাকায় পরিত্যক্ত জলাশয় ও পুকুরগুলির সৌন্দর্যায়ণ করা হয়েছে। পুকুরগুলির হারিয়ে যাওয়া পারগুলিকে বাঁধিয়ে এগুলিকে কাজে লাগানো হয়েছে। এতে শহর আগরতলা নতুনভাবে সেজে উঠেছে। কাজের নিরিখেই আম্রুত প্রকল্পে ত্রিপুরাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা শহরের পাশাপাশি রাজ্যের ২১টি নগর পঞ্চায়েত ও পুর পরিষদ এলাকায়ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে রাজ্য সরকার নানা কর্মসূচি রূপায়ণ করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৩০০টি পরিবারকে ঘর প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, ৬,৭২৫টি স্বসহায়ক দল গঠনের মাধ্যমে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মহিলাদের স্বনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন প্রকৃত উন্নয়ন কি তা উপলব্ধি করতে পারছে। বর্তমান সরকার আগরতলা শহরের জন্য যেমন স্মার্ট সিটি মিশনের কাজ রূপায়ণ করছে তেমনি রাজ্যের সমস্ত নগর পঞ্চায়েত ও পুর পরিষদ এলাকায় অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে মাষ্টার প্ল্যান গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, নাগরিক জীবনে সর্বসুবিধাযুক্ত একটি আধুনিক ওয়ার্ড অফিসের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সরকার আগরতলা পুরনিগম এলাকা সহ রাজ্যের শহরাঞ্চলগুলিতে আধুনিক সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন ওয়ার্ড অফিস নির্মাণ করার কাজ হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, কোন এলাকাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এবিষয়ে সমাজের সব অংশের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তবেই প্রত্যেকের বাসস্থান স্বাস্থ্যসম্মত থাকবে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, পুরনিগমের দক্ষিণ জোনের চেয়ারম্যান অভিজিৎ মল্লিক এবং আগরতলা পুরনিমগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ। উল্লেখ্য, এই ওয়ার্ড অফিসটি গড়ে তুলতে ব্যয় হয়েছে ৯৭ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ ওয়ার্ড অফিসের কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *