নয়াদিল্লি: কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছেন।

কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের উদ্যোগে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত “খরিফ অভিযান ২০২৬” উপলক্ষে জাতীয় কৃষি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

মন্ত্রী জানান, ত্রিপুরায় ধানই প্রধান ফসল এবং রাজ্যের মোট চাষযোগ্য জমির প্রায় ৪৯ শতাংশ ধান চাষের আওতায় রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান চাষের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য রাজ্য বাজেটে ১০ কোটি টাকার সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন,এই বছর আমরা হাইব্রিড ধান চাষের পরিধি আরও বাড়াতে চাই। তাই খাদ্য সুরক্ষার স্বার্থে PM-RKVY প্রকল্পের আওতায় হাইব্রিড ধান চাষ বৃদ্ধির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, ত্রিপুরায় MOVCD-NER প্রকল্প অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের ২৬,৬০০ হেক্টর এলাকায় জৈব চাষ শুরু হয়েছে এবং প্রায় ২৬,৮০০ কৃষক এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ত্রিপুরার ৯৬ শতাংশ কৃষকই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। তাই আমরা চাই এই প্রকল্পটি সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা প্রতিটি রাজ্যে সম্প্রসারিত হোক।”

মন্ত্রী BVFCL-কে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া সরবরাহ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান এবং বলেন আমাদের রাজ্যে তেল পাম চাষের বিস্তৃতি অনেক বেড়েছে। এই চাষে প্রচুর রাসায়নিক উপকরণের প্রয়োজন হয়। তাই সার মন্ত্রকের কাছে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি।

মন্ত্রী জানান, গত আট বছরে রাজ্য সরকার ১৫ লক্ষেরও বেশি কৃষককে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার (PMFBY) আওতায় এনেছে।

তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রবল বর্ষণের ফলে নিচু এলাকার ধানক্ষেত প্লাবিত হয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু তাঁরা বীমার সুবিধা পান না। তাই PMFBY নির্দেশিকায় ‘স্থানীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ’-এর আওতায় বন্যাকে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাচ্ছি।

এছাড়াও তেল পাম চাষে বায়ো-ফেন্সিংয়ের জন্য বর্তমান ৪,০০০ টাকা সহায়তা বাড়িয়ে ৮,০০০ টাকা করার দাবি জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন গত তিন-চার বছরে আমাদের রাজ্যে আলু চাষে Apical Rooted Cuttings (ARC) পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা তিনগুণ বেশি উৎপাদন পেয়েছেন। এই সাফল্য ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক আলু গবেষণা কেন্দ্র (CIP), লিমা, পেরুর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী পরামর্শ ফি চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু চলতি বছরে RKVY-DPR প্রকল্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা চাই এই পরামর্শ ফি পুনরায় চালু করা হোক।

উল্লেখ্য, এই জাতীয় কৃষি সম্মেলনে দেশের ১৯টি রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় কৃষি সচিব অতীশ চন্দ্রসহ কেন্দ্র সরকারের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *