আগরতলা: গ্রামীণ মহিলাদের আত্মনির্ভর হয়ে উঠার ক্ষেত্রে গ্রামীণ জীবিকা মিশনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মহিলাদের স্বশক্তিকরণের মাধ্যমে রাজ্যে সমাজ ব্যবস্থা শক্তিশালী হচ্ছে। মহিলারা হচ্ছেন সবচেয়ে সহনশীল। তাদের নানা উদ্যোগের ফলে সমাজ উপকৃত হচ্ছে। বর্তমানে মহিলারা আত্মনির্ভর হওয়ায় রাজ্যের আর্থিক বুনিয়াদও শক্তিশালী হচ্ছে।

আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে সমৃদ্ধি ২.০ এর অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে শক্তিশালী করতে মহিলাদের স্বশক্তিকরণের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। মহিলাদের স্বশক্তিকরণের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়ায় দেশের গ্রামীণ মহিলারা আজ আত্মনির্ভর হচ্ছেন। গ্রামীণ মহিলাদের আত্মনির্ভর হয়ে উঠার ক্ষেত্রে গ্রামীণ জীবিকা মিশনের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। রাজ্যে সমৃদ্ধি ১.০ এর সফলতা এসেছিল এক সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময় বলে থাকেন, মহিলাদের মধ্যে রয়েছে আত্মবিশ্বাস এবং সফলতা অর্জনের এক প্রবল আত্মশক্তি। আগামীদিনে মহিলাদের আরও বেশি স্বশক্তিকরণ ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়তে সহায়ক হবে।

মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, রাজ্য সরকারও মহিলাদের স্বশক্তিকরণের মাধ্যমে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তুলতে নানা কর্মসূচি রূপায়ণ করে চলেছে। রাজ্যে সমৃদ্ধি ১.০ এর অভিযানের ব্যাপক সফলতায় সমৃদ্ধি ২.০ অভিযান প্রণয়ন করা হয়েছে। সমৃদ্ধি ২.০ অভিযানে রাজ্যে মহিলা স্বনির্ভরগোষ্ঠীগুলিকে এবং ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে ১৫০ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। সেক্ষেত্রে ২.০ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাপিয়ে স্বনির্ভর দলগুলিকে ২৬৯ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের ক্ষেত্রে ২০ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই রাজ্যে এই সাফল্য এসেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে যেখানে রাজ্যে ৫ হাজার মহিলা স্বসহায়ক দল ছিল আজ রাজ্যে ৫৫ হাজারেরও বেশি মহিলা স্বসহায়ক দল গড়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রায় ৫ লক্ষ গ্রামীণ মহিলা স্বসহায়ক দলের সাথে যুক্ত হয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন। মহিলা স্বসহায়ক দলগুলিকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ প্রদান করা হয়েছে। স্বসহায়ক দলগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন ফান্ড গঠনের মাধ্যমে ৮৩৭ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। ব্যাঙ্কসখী, বীমাসখী, প্রাণী ও কৃষিসখীদের মাধ্যমে রাজ্যে গ্রামীণ জীবিকা এক শক্তিশালী ভিত হয়ে গড়ে উঠেছে। রাজ্যে বিভিন্ন ব্লকে এন্টারপ্রেনিউরশিপে ১৩ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলা হবে। তাতে ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিত শীল, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, অর্থ দপ্তরের সচিব ড. প্রশান্ত কুমার গোয়েল, টিআরএলএম এর সিইও তড়িৎ কান্তি চাকমা সহ বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের আধিকারিকগণ। অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লাখপতি দিদিরা তাদের সফলতার কথা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বোতাম টিপে মোট ২৪.৩৭ কোটি টাকার বিভিন্ন গ্রামীণ জীবিকাভিত্তিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী টিআরএলএম-এর একটি নিউজ লেটারের আবরণ উন্মোচন করেন। গ্রামীণ জীবিকা মিশনের ভালো কাজের জন্য শ্রেষ্ঠ ব্যাঙ্ক সখী, শ্রেষ্ঠ ব্যাঙ্ক, শ্রেষ্ঠ ব্লক ও জেলাগুলির প্রতিনিধিদের হাতে মুখ্যমন্ত্রী পুরস্কার ও শংসাপত্র তুলে দেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *