ধর্মনগর।। ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আত্মঘাতী হলেন ধর্মনগর মন্ডল যুব মোর্চার সভাপতি তথা পুর পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাহুল কিশোর রায়।
পরিবারের অভিযোগ, স্বদলীয় কর্মীদের লাগাতার অপমান, হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের জেরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। ঘটনায় সাত জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাহুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
তাঁর স্ত্রী অনন্যা ভট্টাচার্য, পিতা রঞ্জিত কিশোর রায় ও মা অঞ্জনা ভট্টাচার্যের দাবি, দলেরই কিছু কর্মী তাঁকে বারবার হুমকি দিচ্ছিল এবং অপমান করছিল। অভিযোগ, সোমবার দুপুরে কয়েকজন অভিযুক্ত তাঁদের চন্দ্রপুর এলাকার বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। এমনকি বাড়ির সদস্যদের মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ।উল্লেখ্য, রাহুলের স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
পরিবারের দাবি, ওইদিন রাতেও বাড়িতে পুনরায় হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এই পরিস্থিতিতে রাহুল দলীয় নেতৃত্বের কাছে সাহায্য চাইলেও কোনও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির বাথরুমে বিজেপি দলের উত্তরীয় দিয়ে তাঁকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।তাঁদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।এদিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপির উত্তর জেলা সভাপতি কাজল দাস। নিহতের স্ত্রী প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, বারবার জানানো সত্ত্বেও দলীয় নেতৃত্ব কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা।
তিনি জানিয়েছেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সমগ্র ঘটনায় স্বদলীয় রাজনৈতিক কোন্দলই প্রধান কারণ বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার।উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৈরি হওয়া এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ধর্মনগর জুড়ে।
