আগরতলা: থানসা, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড, পুইলা জাতি ইত্যাদি ইস্যুতে মথাকে ফের একবার কঠোর ভাষায় বিধলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বললেন, সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে জিত হাসিল করার পার্টি এই তিপ্রা মথা। মিথ্যে বলে তারা শুধু মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এবার এডিসিতে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠন হলে জনজাতিদের সত্যিকারের উন্নয়ন হবে। এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ নতুনবাজার – মালবাসা নির্বাচনী কেন্দ্রের কুঞ্জরাম পাড়া পাহাড়পুরে আয়োজিত এক যোগদান সভায় অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই উপলক্ষে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজকাল আমরা দেখছি যে মথা খুবই লাফাচ্ছে। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছে। কখন কি বলবে কোন ঠিক থাকে না। এতদিন ধরে তারা ভেবেছিল যে আমরাই আমরা। এডিসি আমরাই নিয়ন্ত্রণ করবো, আমরা যা বলবো তাই হবে। কিন্তু এবার চেহারা অন্যরকম হয়ে গেছে। আমি আপনাদের একটা কথাই বলতে চাই আমরা এই আঞ্চলিক পার্টির সঙ্গে চলার চেষ্টা করেছিলাম। অনেকবার কথাবার্তা হয়েছে। কিন্তু তারা কথা বলে একটা, করে আরেকটা। একইভাবে তারাও চাইছে কমিউনিস্টদের কায়দায় এডিসি এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সম্ভব হচ্ছিল না। তাই আমরা নিজেদের মতো লড়াই করার উদ্যোগ নিয়েছি।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা নিশ্চিত যে এবার এডিসিতে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠন হবে। এডিসিতে ২৮টি আসন নিয়ে আমরা সরকার গঠন করলে সেখানে জনজাতিদের জন্য সত্যিকারের উন্নয়ন আপনারা দেখতে পাবেন। মথার পক্ষ থেকে এক একদিন এক এক ইস্যু তোলা হয়। যেমন বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েত ও অমরপুর নগর পঞ্চায়েত নিয়ে অনেক ধরনের কথাবার্তা বলেছে তারা। কি বলছে তারা? আমরা নাকি এডিসির অংশ নিয়ে যাচ্ছি। এটা মিথ্যা অপবাদ। অন্ততপক্ষে আমি মুখ্যমন্ত্রী থাকতে কোনদিন হতে দেব না। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা এধরণের কথা বলে। ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন নিয়েও কত কথা বলেছে। আমরা নাকি ভিসি হতে দিই নি। অথচ আমরা বলেছি ভিসি নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি সবসময় প্রস্তুত। আমাদের সরকারের সঙ্গে কোন কথা না বলে আরো ভিসি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, থানসা নিয়েও কত ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। বলছে থানসার কথা। আর সেখানে সংখ্যালঘু ও বাঙালিদেরকেও টেনে নেওয়া হচ্ছে। কখন কি করছেন সেটা নিজেও বলতে পারেন না। একবার গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড নিয়ে শ্লোগান তুলছেন। কিন্তু সেটার বাউন্ডারি কোথায় জানা যায় না। এবার আবার প্রদ্যুত কিশোর গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড সামনে এনেছেন। ইস্যু নেই। তাই ঘুম থেকে উঠে ইস্যু তৈরি করছেন। শুধুমাত্র মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এধরণের কথা বলা হচ্ছে। একজন নেতার যা যা গুণ থাকা দরকার সেটা তার মধ্যে নেই। শুধু জোরে গলায় আওয়াজ তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, থানসা থানসা বলে চিৎকার করে। আর আমরা বলছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশিত সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস, সবকা বিশ্বাস এর কথা। আমরা বলছি জাতি জনজাতি মণিপুরী সংখ্যালঘু সহ সকল অংশের মানুষকে নিয়ে এক ত্রিপুরা ও নতুন ত্রিপুরা গড়ে তুলবো। এরই নাম হচ্ছে থানসা। মানুষ শান্তি চায়, অশান্তি চায় না।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন রাজতন্ত্র নেই, গনতন্ত্রের যুগ। এই সত্য মানতে হবে। কারণ রাজতন্ত্র এখন আর নেই। অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলেছেন যে এডিসির উন্নয়নে যে পরিমাণে অর্থ আমরা দিয়েছি এর ইউটিলাইজেশান সার্টিফিকেট পর্যন্ত নেই। এরকম অবস্থার মধ্যে চারিদিকে শুধু লুট আর লুট। আপনারাই আপনাদের লোককে ঠকাচ্ছেন। যাদের থানসা বলছেন, তাদেরকে আপনি ঠকাচ্ছেন। আর সেটাই মানুষ এখন বুঝে গেছেন। যে কারণে ঘুম হচ্ছেনা এখন। ডাঃ সাহা বলেন, তিপ্রা অ্যাকর্ড নিয়ে আমি নিজেও উৎসুক ছিলাম। আমি নিজে দিল্লি গিয়েছি। সেখানে কথাবার্তা হয়েছে। বলা হয়েছে যে অন্ততপক্ষে ৬ মাস কোন ধরনের আন্দোলন করা যাবে না, কাউকে মারধোর করা যাবে না। কিন্তু যেদিন তিপ্রা অ্যাকর্ড হয় পরদিন থেকেই মারপিট, রাস্তা রোখো ইত্যাদি শুরু হয়। তবে কে সেই অ্যাকর্ড এর নিয়ম ভঙ্গ করেছে? আর এটাকে নিয়েও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে জিত হাসিল করার পার্টি হচ্ছে তিপ্রা মথা। তিপ্রা মথা মানে টিএমপি। পশ্চিমবঙ্গে আছে টিএমসি মানে তৃণমূল কংগ্রেস। ওখানেও মারপিট করে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে। একই ঘটনা এখানেও হচ্ছে। একই কায়দায় সাধারণ মানুষের টুঁটি টিপে ধরার চেষ্টা করছে। তাই এখন আর অ্যাকটিং করে কাজ হবে না। আমি এখনো আবেদন করবো তিপ্রা মথার যারা যুব সম্প্রদায় আছে তারা যাতে ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকা তলে এসে সামিল হয়।
যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রনজিত সিংহ রায়, বিধায়ক রঞ্জিত দাস, নতুনবাজার – মালবাসা কেন্দ্রের প্রার্থী রবীন্দ্র রিয়াং, অম্পিনগর কেন্দ্রের এডিসি প্রার্থী সওদাগর কলই, সংখ্যালঘু নেতা জসিম উদ্দিন সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
এদিন এই সভা থেকে ২০৩ পরিবারের ৭০০ জন ভোটার ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। তাদের দলীয় পতাকা দিয়ে বরণ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
