আগরতলা : আসন্ন ৫৬-ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রবীণ সংগঠক জহর চক্রবর্তীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল স্তরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়া এক কর্মীর প্রতি এই মনোনয়নকে রাজনৈতিক মহল তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছে।
ধর্মনগর শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জহর চক্রবর্তী একজন শান্ত স্বভাবের, জনমুখী এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত। বহু বছর ধরে তিনি দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। জনসেবামূলক কাজের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইন্ডিয়ান রেড ক্রস সোসাইটির ধর্মনগর শাখার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মানবিক সহায়তা ও সেবামূলক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন একেবারেই মসৃণ ছিল না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে তাঁকে একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এমনকি দলীয় বিবাদের জেরে নিজের দলের কিছু সদস্যের হাতেই তাঁকে হেনস্থা ও শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। তবুও তিনি দল থেকে সরে দাঁড়াননি; বরং সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সংগঠনের প্রতি আস্থা রেখে তৃণমূল স্তরে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন।
তাঁর এই ধৈর্য, অধ্যবসায় ও অনুগত মনোভাবের ফলস্বরূপই আজকের এই মনোনয়ন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।প্রার্থী ঘোষণার পরপরই ধর্মনগরে তাঁর বাসভবনে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এই ভিড় এবং উৎসাহ স্থানীয় স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বও জহর চক্রবর্তীর মনোনয়নকে স্বাগত জানিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি প্রয়াত বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেনের অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তাঁদের মতে, চক্রবর্তীর নেতৃত্ব ধর্মনগরের সার্বিক উন্নয়নকে নতুন গতি দেবে এবং রাজ্যের সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, জহর চক্রবর্তীর মতো অভিজ্ঞ ও তৃণমূলভিত্তিক নেতৃত্ব রাজ্যের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও বলেন, সমগ্র রাজ্যজুড়ে সামগ্রিক উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে এই ধরনের নেতৃত্ব অত্যন্ত সহায়ক হবে। অন্যদিকে, এই মনোনয়ন ঘিরে দলীয় কর্মীদের মধ্যেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে-ময়দানে কাজ করা কর্মীদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তাঁরা দলীয় নেতৃত্বের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও যেন তৃণমূল স্তরের নিবেদিত কর্মীদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। উপনির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই ধর্মনগর কেন্দ্রটি রাজ্যের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, জহর চক্রবর্তীর প্রার্থিতা এই কেন্দ্রের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের ময়দানে এই তৃণমূল নেতা কতটা সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন এবং ধর্মনগরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।
