আগরতলা: মানুষের জন্য কাজ করা সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য। রাজ্যের বর্তমান সরকার সকল অংশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে। কাজ ও উন্নয়নের নিরিখে ভারতীয় জনতা পার্টিকে চাইছেন মানুষ। আর আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থানে চলে আসবে।
আজ আগরতলার শিশু উদ্যানে বিকশিত ভারত, বিকশিত ত্রিপুরা প্রদর্শনী ও মেলার উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ২০৪৭ সালে আমাদের দেশের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে। সেই দিশায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারত ২০৪৭ এর টার্গেট দিয়েছেন। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ হতে হবে। আর এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের জন্য এখন সারা ভারতবর্ষে সবাই মিলে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস রয়েছে। আমাদের রাজ্যও বিকশিত ভারত এর একটা গুরুত্বপূর্ন অংশ। এজন্য বিকশিত ত্রিপুরা এর রোডম্যাপ তৈরির ক্ষেত্রে আমরা দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে পঞ্চম স্থানে চলে আসি। যথারীতি কাজও শুরু হয়েছে আমাদের।
মুখ্যমন্ত্রী আলোচনায় বলেন, সামরিক দিক দিয়ে দেশ শক্তিশালী হলে কাজ করতেও সুবিধা হবে। ভারত কখনো আগে কাউকে আক্রমণ করে না। সেটা ইতিহাস বলে। এবারের বাজেটে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিপুল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শান্তিতে কাজ করতে পারলেই বিকশিত ভারত গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাই আমাদের শক্তিশালী থাকতে হবে, কাজ করতে হবে, পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে, সব মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করতে হবে, লাখপতি দিদি তৈরি করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলেই সেসব সম্ভবপর হবে।
প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন সেটা বাস্তবায়িত হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন অবধি ভারতবর্ষের অর্থনীতি ১১তম স্থান থেকে পঞ্চম হয়ে চতুর্থ স্থানে চলে এসেছে। হিসেব অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থানে চলে আসবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চাইছেন। কাজ ও উন্নয়নের নিরিখে মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিকে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশকে ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আজ ত্রিপুরায় দেশের মধ্যে প্রথম বারের মতো স্টেট ইনোভেশন মিশন এর সূচনা হয়েছে। এজন্য ত্রিপুরায় এসেছেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান। মূলত, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনায় কিভাবে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায় সেই লক্ষ্যে এই মিশনের পথচলা শুরু হয়েছে। এজন্য যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করবে সরকার।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, যেকোন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ঐতিহ্য পরম্পরা বজায় রাখার জন্য এই সরকার কাজ করছে। সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এক্ষেত্রে ধর্মীয় পর্যটনের উপরও নজর দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরায় এখন আইন শৃঙ্খলা বেশ ভালো রয়েছে। অপরাধের হার বিগত সময়ের তুলনায় এখন অনেক কমেছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মানুষের রাজ্যের যেকোন জায়গায় যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই হুমকি ধমকি দিয়ে কোন কাজ হবে না। আর নাটকবাজ অনেক রয়েছে। এসব নাটকবাজদের জন্য মুম্বাইয়ে সিট খালি রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জন্য কাজ করা।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সদস্য রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, মেলার আয়োজক তরুণ জৈন, শ্রীহরি খাদি গ্রামোদ্যোগ বিকাশ সংস্থার প্রেসিডেন্ট অঞ্জু গুপ্তা সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
