আগরতলা :১৪ মাস পর প্রতীক্ষার অবসান।বাস পরিষেবা মঙ্গলবার থেকে চালু হতে চলছে, বাংলাদেশ বাস পরিষেবা ফ্লেগ অফ করেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।

এদিন আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আগরতলা- কলকাতা ভায়া ঢাকা বাস ত্রিপুরায় প্রবেশ করে। বাস যাত্রীদের স্বাগত জানাতে সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টি আর টি সির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সমর রায়, এমডি হেমন্ত দেববর্মা সহ অন্যান্যরা।

আগরতলা ঢাকা কলকাতা বাস পরিষেবা নিয়ে পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, নতুন উদ্যোমে ও নতুন আশা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের যে মৈত্রী ও শ্যামলী বাস সার্ভিস শুরু হয়েছিল, তাকে আগামী দিনে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক যত মধুর হবে, ততোই দু’দেশের উন্নতি সাধিত হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, ভারতবাসী ও ত্রিপুরাবাসী হিসেবে আমরা সব সময় মনে করি বাংলাদেশ আমাদের পরিবারের সদস্য হিসাবে মান্যতা দিয়েছে। আজু নিকট আত্মীয় হিসেবে আমরা মনে করি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে কোন অশান্তির পরিবেশ হবে এটা ভারতবাসীর কাছে যেমন সুখকর নয়, তার থেকে বেশি গুরুত্ব হল বাংলা দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সুখকর নয়। তাই মাঝখানে যে বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এই বিপরীত পরিস্থিতিকে কাটিয়ে উঠে গণতান্ত্রিক পরিবেশে একটা নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। ত্রিপুরাবাসীর পক্ষ থেকে নতুন মন্ত্রী সভাকে হার্দিক অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি আশা রাখবো বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ভারত বাংলাদেশের যে মৈত্রী। ও সুসম্পর্ক যেটা এক বছর আগেও বিদ্যমান ছিল, সেটাকে ত্বরান্বিত করবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, দুই দেশের উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করবে, অগ্রগতির পথের দিশা দেখাবে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারিখ রহমান ও তার মন্ত্রী সভাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কে পাঠিয়ে মৈত্রীর নতুন রূপে বার্তা প্রদান করেছেন বলেও জানান মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি আরো বলেন দেশের বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শংকর প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মৈত্রী কে অটুট রাখতে তার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন।

ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত। বাস সার্ভিস চালু হওয়ার ক্ষেত্রে আগরতলার বাংলাদেশ সহকারি হাইকমিশনে ভিসা প্রদান ক্রম চালু হয়েছে। তাতে ত্রিপুরাবাসী খুবই উল্লাসিত ও আনন্দিত। আগামী দিনে বাংলাদেশের নতুন সরকার বাণিজ্য, সংস্কৃতি, শিল্প সহ প্রতিটা ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো অটুট হবে। উন্নয়নের নিরিখে দুই দেশের আত্মার সম্পর্ক আরো গভীর হবে। এদিনের বাস সার্ভিস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন এই দিনটার জন্য ভারতবাসী এবং ত্রিপুরাবাসী অপেক্ষায় ছিল।

পরবর্তী সময়ে এক সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশ থেকে আগত যাত্রীদের হাতে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী সহ উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *