আগরতলা: রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। ছাত্রছাত্রী অর্থাৎ আগামীদিনের ভবিষ্যতকে যথাযথ শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যুব শক্তির উপর ভরসা করে নতুন ভারত গঠনে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আজ উদয়পুর রমেশ দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের প্ল্যাটিনাম জুবিলি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা উপস্থিত সকলকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আমরা একটা নতুন ত্রিপুরা গড়তে চলেছি। ত্রিপুরার সমস্ত জাতি, জনজাতি, মণিপুরী, সংখ্যালঘু সহ সবাইকে নিয়ে যে থানসা, তাকে নিয়ে আগামীদিনে ত্রিপুরাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আজকের যারা ছোট ছোট ছেলেমেয়ে তারাই আগামীদিনের কান্ডারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সময়ে দেশ ও রাজ্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও বিরোধীরা বরাবরের মতো কিছু মুখস্থ করা বুলি আওড়ে যাচ্ছেন এখনো। কিন্তু এসব বস্তাপচা কথাবার্তা এখন আর চলে না।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনেই এই রমেশ স্কুল পথচলা শুরু করেছিল। ত্রিপুরা রাজ্যে যতগুলি বনেদি স্কুল রয়েছে তারমধ্যে অন্যতম একটি এই রমেশ স্কুল। স্বাভাবিকভাবে এই স্কুলের মান, মর্যাদা, ইতিহাস সম্পর্কে মনে রাখা উচিত আমাদের। ১৯৫১ সালের ২ জানুয়ারি এই স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেন রমেশ চন্দ্র দত্ত। পরবর্তী সময়ে তাঁর পুত্র ধীরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত স্কুলটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। স্কুলটির সার্বিক উন্নয়নে এবং একে প্রতিষ্ঠিত করতে কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন পিতা পুত্র দুজনেই। পরে সরকার স্কুলটির উন্নয়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৪২টি সরকারি সহায়তা প্রাপ্ত স্কুল রয়েছে। এটিও সরকারি সহায়তা প্রাপ্ত একটি স্কুল। এই স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বলছেন যে স্কুলে এখনো স্টাফ ও শিক্ষকের কিছুটা খামতি রয়েছে। আমরা এবিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা বলছি। ক্যাবিনেটেও আলোচনা হবে। সরকারি সহায়তা প্রাপ্ত স্কুলগুলিতে শূন্যপদ পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সরকার।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রমেশ স্কুল থেকে পড়াশুনা করা অনেক ব্যক্তি শুধু দেশে নয়, বিদেশেও স্ব স্ব মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এই স্কুল থেকে পাশ করা কেউ বিচারপতি, কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ প্রযুক্তিবিদ, কেউ শিক্ষাবিদ, কেউ সিভিল সার্ভিস অফিসার, কেউ ক্রীড়াবিদ, কেউ কেউ বিজ্ঞানী, বায়ো কেমিস্ট, সেনাবাহিনীর অফিসার, লেখক, কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গায়ক, নৃত্যশিল্পী সহ বিভিন্ন গুণী পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। অনেকে এই স্কুল থেকে পাশ করার পর সমাজ সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন। বিধায়ক থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন এই স্কুলের প্রাক্তনীরা। বর্তমানেও এই স্কুল থেকে পাশ করা তিনজন বিধায়ক রয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, রমেশ স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৮ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। নতুন ভবন ও অডিটোরিয়ামের কাজ চলছে। প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সিন্থেটিক ফুটবল গ্রাউন্ড হচ্ছে এখানে। আমরা চাই রাজ্যের সমস্ত স্কুলগুলির সার্বিক উন্নয়ন করতে। কারণ স্কুল হচ্ছে মন্দিরের মতো। ছাত্রছাত্রী অর্থাৎ আগামীদিনের ভবিষ্যতকে যথাযথ শিক্ষা দেওয়া না গেলে একটা গ্যাপ চলে আসবে। আর সেদিকে নজর রাখতে হবে আমাদের। শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণমান উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা নীতি (ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি) চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার একটা কথাই বলছেন যে শিক্ষা শুধু বই পড়লে হবে না, এর পাশাপাশি মূল্যবোধ, বিকাশ ও জাতি গঠনের চিন্তাধারায় সমৃদ্ধ হতে হবে। আধ্যাত্মিক বিষয়ে সমৃদ্ধ হতে সমস্ত স্কুলে ছেলেমেয়েদের মেডিটেশন করা খুব প্রয়োজন। যেমন খেলাধুলার আগে অন্তত ১০ বা ১৫ মিনিট মেডিটেশন করা দরকার। খেলার পরেও সেটা দরকার। এতে খেলাধুলার মধ্যে একটা ছন্দ পাওয়া যায়। ১৮ থেকে ৩৫ বছরের সবচাইতে মানব সম্পদ রয়েছে ভারতবর্ষে। যার উপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। ছাত্রছাত্রীদের উপর পরীক্ষা সম্পর্কে চাপমুক্ত করতে পরীক্ষা পে চর্চা কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্যে নিপুণ ত্রিপুরা চালু করা হয়েছে। বিদ্যাসেতু মডিউল, মিশন মুকুল, নিপুণ কর্ণার সহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। রাজ্যে ১২৫টি বিদ্যাজ্যোতি স্কুল করা হয়েছে। সুপার ৩০ প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত আইআইটি’তে ৮ জন, ১২ জন এমবিবিএস এ এবং ১৩ জন এনআইটিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রনজিত সিংহ রায়, গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিংকু লাঠের, পুলিশ সুপার কিরণ কুমার কে, রমেশ স্কুলের প্রিন্সিপাল ইনচার্জ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গুণীজনগণ।
