আগরতলা: রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবন মানের উন্নতি সাধন করা। জনজীবনের অগ্রাধিকার হিসেবে মৌলিক বিষয়গুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে সরকার। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

আজ ধলাই জেলার কমলপুরের মানিকভান্ডার হরচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ২০টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ২টি প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার বলছেন সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত উন্নয়ন অবশ্যই আমাদের করতে হবে। আমরা জানি ধলাই জেলার মধ্যে বেশিরভাগই অ্যাস্পিরেশন্যাল ব্লক। আর এই জেলাও অ্যাস্পিরেশন্যাল জেলা হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১৮ সালে আমাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ধলাই জেলার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এতে রাজ্য সরকারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই জেলার আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অথচ বিরোধীরা নাকি উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন না।

যদিও তারা সব জেনেশুনে এই উন্নয়ন না দেখার ভান করে থাকেন। রাজ্যে এখন একের পর এক উন্নয়ন হয়ে যাচ্ছে। ত্রিপুরার ইতিহাসে একটা নতুন অধ্যায় হচ্ছে এখন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ এখানে গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, নগরোন্নয়ন দপ্তর, স্বাস্থ্য দপ্তর, শিক্ষা, পূর্ত, জাতীয় সড়ক সহ ২২টি বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ২০৭ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। রাজ্য সরকার চায় মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে সামগ্রিক উন্নয়ন সাধন করা। সেই সঙ্গে মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করাও অন্যতম লক্ষ্য। উন্নয়ন হচ্ছে অন্তহীন। এর কোন শেষ নেই। রাজ্য সরকার একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে।

বিভিন্ন মহকুমা, ব্লক, প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণ, রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিভিন্ন অফিসের নতুন ভবন নির্মাণ, স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ, বিভিন্ন ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ, বাজার শেড নির্মাণ, শেল্টার হাউজ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সিন্থেটিক ফুটবল গ্রাউন্ড, ছাত্রছাত্রীদের জন্য হোস্টেল, বিদ্যালয়ের পাকা বাড়ি, কৃষক বন্ধু কেন্দ্র নির্মাণ, আধুনিক সুবিধাযুক্ত মোটরস্ট্যান্ড নির্মাণ সহ ইত্যাদি পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এই সরকার চেষ্টা করছে জনজীবনের অগ্রাধিকার হিসেবে মৌলিক বিষয়গুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলি বাস্তবায়ন করার। প্রধানমন্ত্রীর বিকশিত ভারত ২০৪৭ এর দিকে লক্ষ্য রেখে ত্রিপুরা সরকারও চাইছে বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তোলার। আর সেই দিশায় কাজ করছে রাজ্য সরকার।

বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবন মানের উন্নতি সাধন করা। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের প্রসার সহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সহ আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। বিভিন্ন প্যারামিটারে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে আমাদের রাজ্য। নীতি আয়োগ ত্রিপুরাকে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসেবে ঘোষণা করেছে। ত্রিপুরা সরকার প্রকৃত অর্থে মানুষের জন্য কাজ করছে। পঞ্চায়েতী রাজ ব্যবস্থায় ৭টি পুরস্কার পেয়েছে ত্রিপুরা।

রাজ্যের গোমতী জেলা ও ধলাই জেলার গঙ্গানগর ব্লককে প্রাইম মিনিস্টার অ্যাওয়ার্ড ফর অ্যাক্সেলেন্স ইন পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। গোমতী জেলা হলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট অফ ডিস্ট্রিক্ট ক্যাটাগরিতে এবং গঙ্গানগর ব্লক অ্যাস্পিরেশন্যাল ব্লক ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে। প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনার জন্য ক্যাবিনেট থেকে শুরু করে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত পর্যন্ত ই অফিস চালু করা হয়েছে। এতে কাজের গতি বেড়েছে এবং মানুষের সুবিধা হয়েছে। জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য আমার সরকার পোর্টাল খোলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষকদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্যে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি সহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা ও মুখ্যমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা এর সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পে ২০তম কিস্তিতে ৪৫ কোটি ৪৩ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এই রাজ্যে এই প্রকল্পে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার ৩৬ জন। ১৯তম কিস্তি পর্যন্ত ২ লক্ষ ৮৪ হাজারের অধিক কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৮৪৪ কোটি টাকার অধিক অর্থ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন লাখপতি দিদির কথা। এখন পর্যন্ত রাজ্যে আমাদের ১ লক্ষ ১৪ হাজার টার্গেটের মধ্যে ১ লক্ষ ৮ হাজার লাখপতি দিদি হয়েছেন। যা শতকরার দিক দিয়ে প্রায় ৯৫% অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রামীণ মহিলাদের এখন আর্থ সামাজিক উন্নয়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ডাঃ সাহা জানান, এই জেলার জেলা হাসপাতালকে নিয়ে আগামীদিনে একটা মেডিকেল কলেজ খোলার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। আগে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা অনেক কম ছিল। সেই জায়গায় ৭২৭ থেকে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১,৪১৩টি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধলাই জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, বিধায়ক মনোজ কান্তি দেব, বিধায়ক স্বপ্না দাস পাল, আমবাসা পুর পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতিমা মালাকার, আমবাসা বিএসি চেয়ারম্যান পরিমল দেববর্মা, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং পদস্থ আধিকারিকগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *