আগরতলা।।৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি আজ আয়োজিত হয় আসাম রাইফেলস ময়দানে। সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। প্রজাতন্ত্র দিবসের এই মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব জে.কে. সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ সহ রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ আধিকারিকগণ। অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ১৬টি প্ল্যাটুন কুচকাওয়াজের মাধ্যমে রাজ্যপালকে অভিবাদন জানান। অনুষ্ঠানে ভাষণ রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডিড নাল্লু বলেন, ১৯৫০ সালে এই দিনে আমরা, ভারতবাসীরা নিজেদেরকে সংবিধান উপহার দিয়েছিলাম, যার মাধ্যমে সমস্ত নাগরিকদের জন্য ন্যায়, সাম্য ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে। সেই সাথে আমরা অঙ্গীকার নিয়েছিলাম আমাদের মহান রাষ্ট্রের একতা ও অখন্ডতাকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার। সংবিধান হচ্ছে আমাদের অধিকার লিপিবদ্ধকারী এক দলিল এবং কর্মক্ষেত্রে এক পথ প্রদর্শক। সংবিধান এমন একটি দলিল যার জন্য আমাদের গর্ববোধ করা উচিৎ এবং তার অস্তিত্বকে ধরে রাখার জন্য সচেষ্ট থাকা উচিৎ। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যেসব মহান নারী-পুরুষ নিজেদের জীবন বলিদান দিয়েছিলেন তাঁদের স্মরণ করার দিনও এই দিবস। বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, ত্রিপুরাতে জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ লোক সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। রাজ্যের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার পরিকল্পিত কৃষিকাজের উপর জোর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (পিএম.-কিষাণ) প্রকল্পে ২.৪৪ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে ১০৩.৪০ কোটি টাকা জমা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিএম কিষাণ প্রকল্পে ২০তম এবং ২১তম কিস্তি বাবদ ২.১৭ লক্ষ কৃষকের একাউন্টে জমা হয়েছে ৮৭৪৭.৪৪ লক্ষ টাকা। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার অধীনে মোট ৩,০৯,১৯৫ জন কৃষককে বীমার আওতায় আনা হয়েছে। রাজ্য মাছের চারা উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন করেছে এবং উদ্বৃত্ত মাছের চারা প্রতিবেশি রাজ্যগুলিতে সরবরাহ করা হচ্ছে।বর্তমানে মাছের চারা উৎপাদনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এবং মৎস্যচাষীদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে দপ্তর একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন-উন্নত প্রথায় মৎস্যচাষ, ফ্রন্টলাইন মৎস্য চাষ পদ্ধতি গ্রহণ, উচ্চ গুণমান সম্পন্ন মাছের চারা উৎপাদন, ফসল তোলার পর পরিকাঠামো তৈরি এবং মৎস্য জীবীদের জন্য কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি। রাজ্যপাল বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস অর্থাৎ ৫ জুন, ২০২৫ তারিখে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে ‘এক পেড় মা কে নাম ২.০ ক্যাম্পেইন’-এর সূচনা হয়। ত্রিপুরা রাজ্যে মোট ২২,৩৩,৯০২ লক্ষ চারা লাগানো হয়। এই অভিযান এখনো পর্যায়ক্রমে চলছে এবং লাগানো চারাগুলিকে দেখাশোনা ও রক্ষা করার জন্য স্থানীয় জনগণকে কাজে লাগানো হচ্ছে। কমপ্লায়েন্স রিডাকশন ও ডিরেগুলেশন সংক্রান্ত ২৩টি পয়েন্ট অগ্রাধিকারের নিরিখে ত্রিপুরা রাজ্য শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে। রাজ্যের পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উন্নয়ন বিশেষ করে সড়ক, সেতু, বিল্ডিং ইত্যাদির উন্নয়নে পূর্ত দপ্তর বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। বিগত বছরগুলিতে বহু পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও অনেক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হস্ততাঁত ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য জাতীয় হস্ততাঁত দিবস-২০২৫-এ রাজ্যের পারম্পরিক হস্ততাঁত শিল্পী শিমলা দেববর্মাকে জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। জল জীবন মিশন-এর আওতায় গ্রামীণ পরিবারগুলিকে পাইপের মাধ্যমে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সেজন্য ভারত সরকারের জলশক্তি মন্ত্রক ২০২২-এর ২ অক্টোবর ত্রিপুরাকে প্রথম পুরষ্কার প্রদান করেছে। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত ৭.৫০ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারের মধ্যে ৬,৪৬,৮০১ (৮৬.১৪ শতাংশ) পরিবারে পানীয়জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় মূলত: গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে। পিএমজিএসওয়াই প্রকল্পে রাজ্যের বিরাট সংখ্যক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বসতিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু বলেন, জাতীয় সড়ক প্রকল্পে রাজ্যের মোট ৬টি সড়কের ৯২৩.৩১ কিমি সড়ক রয়েছে এবং আরও ৪টি সড়কের ২২৯.২৫ কিমি অংশকে নীতিগতভাবে জাতীয় সড়ক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত জাতীয় সড়কগুলিকে ডবল লেনে উন্নীত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর ১.৫৫ লক্ষ গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে পিএমজিএসওয়াই-গ্রামীণ প্রকল্পে। সাথে সমস্ত সুবিধাভোগীদের শৌচাগার, জল সংযোগ, বিদ্যুৎ ও এলপিজি সংযোগ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা রাজ্যে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে একটি নতুন পর্যটন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। স্বদেশ দর্শন-১ ও ২ প্রকল্পের আওতায় আগরতলা, সিপাহীজলা, উদয়পুর, ছবিমুড়া, নীরমহল, উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, ডুম্বুর লেক, জম্পুই হিলস ও ঊনকোটি-সহ রাজ্যের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বদেশ দর্শন প্রকল্পের অধীনে ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক থেকে মোট ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক-এর অর্থানুকূল্যে বিদেশি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পের আওতায় পর্যটন দপ্তর কসবা কালীবাড়ি মন্দির, চতুর্দশ দেবতাবাড়ি মন্দির, সোনামুখী (কৈলাশহর), ছবিমুড়া, অমরসাগর ও ফটিকসাগর-সহ বিভিন্ন স্থানে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯.৭২ কোটি টাকা। কাজগুলি বর্তমানে চলছে।
উদয়পুরের বনদুয়ারে ৫১টি শক্তিপীঠের প্রতিরূপ নির্মাণের জন্য ‘আইকনিক পর্যটন কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের অধীনে রাজ্যগুলির জন্য বিশেষ মূলধনী সহায়তা হিসেবে ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রক, ৯৭.৭০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ভূমিপূজন ও শিলান্যাস করেছেন এবং কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্যপাল আরও জানান, ব্যবসা পরিচালনাকে সহজতর করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ত্রিপুরা ল্যান্ড রেভিনিউ এন্ড ল্যান্ড রিফর্মস রুলস ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। ভূমি নথির আধুনিকীকরণের উদ্দেশ্যে ত্রিপুরা ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার বিধিমালা, ২০২৪, ৯ জুন, ২০২৫ ইং তারিখে গৃহীত হয়েছে। এই বিধিমালার মাধ্যমে জমির মালিকরা তাঁদের জমির অধিকার সংক্রান্ত নথি আধার নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুবিধা পাচ্ছেন। ভূমি বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভূমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূমিধারীদের বিশেষাধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ত্রিপুরা ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার (ভূমি বন্দোবস্ত) (দশম সংশোধনী) বিধিমালা, ২০২৫ প্রবর্তন করা হয়েছে।
রাজ্যপাল আরও বলেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার মানবসম্পদ উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে আসছে। বিশেষত আগামী প্রজন্মের একটি সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনের উদ্দেশ্যে গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। গত ২৩ জুন, ২০২৫ মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারা ত্রিপুরা রাজ্যকে পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা রাজ্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে ত্রিপুরা ভারতের তৃতীয় রাজ্য হিসেবে এই মর্যাদা অর্জন করে। উল্লাস- নব ভারত সাক্ষরতা কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে রাজ্যের সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫.৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। উচ্চশিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে আমবাসা, কাকড়াবন ও করবুক- এই তিনটি স্থানে (সাধারণ) সরকারি ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করা হয়েছে এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার মহিলা কলেজকে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার নামকরণ করা হয়েছে ত্রিপুরা সরকারি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে রাজ্যের কারিগরি উচ্চশিক্ষা পরিকাঠামো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিকে রাজ্য কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণার্থে ‘চিফ মিনিস্টার্স স্কিমস ফর মেন্টালি চ্যালেঞ্জড পার্সনস’ নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় ৬০ শতাংশ বা তদূর্ধ্ব বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা, মানসিক অসুস্থতা অথবা সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাসিক ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে এই প্রকল্পে মোট ৮৯১ জন সুবিধাভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। রাজ্যপাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী অন্ত্যোদয় শ্রাদ্ধাঞ্জলি যোজনা-এর অধীনে অন্ত্যোদয় পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুজনিত কারণে প্রদেয় এককালীন আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ২,০০০/-টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০,০০০/- টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্ত্যোদয় পরিবারের কন্যাসন্তানদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ প্রদান এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের লক্ষ্যে ‘মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা’ চালু করা হয়েছে। এই যোজনার আওতায় ১ এপ্রিল, ২০২৫ অথবা তদপরবর্তী সময়ে জন্মগ্রহণকারী যোগ্য কন্যাসন্তানের জন্য এককালীন ৫০,০০০/- টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে একটি অন্ত্যোদয় পরিবার থেকে সর্বাধিক ২ জন কন্যাসন্তান এই যোজনার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।২০২৫-২৬ সালে ‘মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনা’ নামে আরও একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে, অন্ত্যোদয় পরিবারের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মেয়েকে তার বিয়ের জন্য ৫০,০০০/- টাকা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত সরকারের আয়ুষ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ত্রিপুরার আগরতলার সাধুটিলায় একটি হোমিওপ্যাথিক কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং রাজ্য সরকার গোমতী জেলার চন্দ্রপুরে একটি আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। রাজ্যপাল বলেন, ১.০৮ লক্ষ ‘লাখপতি দিদি’ তৈরি করা হয়েছে, যা গ্রামীণ নারী উদ্যোগী তৈরিতে ত্রিপুরাকে জাতীয় স্তরে অগ্রগামী করে তুলেছে। গ্রামোন্নয়ন দপ্তর রাজ্যের শেষ সীমা পর্যন্ত গ্রামীণ সংযোগের সমস্যা সমাধান করতে ‘মুখ্যমন্ত্রী গ্রাম সম্পর্ক যোজনা’ চালু করেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো প্রায় ৫০০ কিমি সর্ব-ঋতু উপযোগী রাস্তা নির্মাণ করা, যাতে বিদ্যমান রাস্তা থেকে দূরে অবস্থিত জনবসতিগুলো প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী গ্রাম সম্পর্ক যোজনায় প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার নির্মিত বা প্রস্তাবিত রাস্তা থেকে ৫০ মিটার থেকে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সংযোগবিহীন জনবসতিগুলোর সমস্যা সমাধানের জন্য সর্ব-ঋতু বিটুমিনাস রাস্তা সংযোগের কাজ হাতে নিতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এমন রাস্তা তৈরি করা হবে। রাজ্যপাল বলেন, ত্রিপুরা দুটি মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে- পিএম-জনমন বাস্তবায়নে সেরা পারফর্মিং রাজ্য এবং ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযান বাস্তবায়নে সেরা পারফর্মিং রাজ্য হিসেবে। উত্তর ত্রিপুরা জেলাও পিএম-জনমন বাস্তবায়নের জন্য সেরা পারফর্মিং জেলা হিসেবে সম্মানিত হয়েছে। জনজাতিদের প্রধান সমাজপতিদের স্বীকৃতির চিহ্ন হিসেবে এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্বীকার করার জন্য তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষার্থে সাম্মানিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে, যা সম্প্রতি মাসিক ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সকলকে শপথ, কঠোর পরিশ্রম, নিঃস্বার্থ সেবা এবং পরম আন্তরিকতা ও সততার সাথে, প্রকৃত কাজের স্পৃহা ও কর্মসংস্কৃতি নিয়ে ত্রিপুরাকে দেশের একটি আদর্শ, সমৃদ্ধ এবং সেরা রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। আজকের এই অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজে অংশ নেন বি.এস.এফ, টি.এস.আর-এর ১৪ ও ১৫ ব্যাটেলিয়ন, আসাম রাইফেলস, সি.আর.পি.এফ, মণিপুর পুলিশ, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, হোমগার্ড, এন.সি.সি. বালক ও বালিকা, গার্লস গাইড, বয়েজ স্কাউট, এন.এস.এস., সিভিল ডিফেন্স এবং আসাম রাইফেলস পাবলিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। কুচকাওয়াজে উৎকর্ষতার নিরিখে সিকিউরিটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বিএস.এফ, প্ল্যাটুন, দ্বিতীয় মহিলা টি.এস.আর. (১৫ ব্যাটেলিয়ন) এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে আসাম রাইফেলস। নন-সিকিউরিটি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে এন.এস.এস., দ্বিতীয় স্থান গার্লস গাইড এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে এন.সি.সি. গার্লস। বিজয়ী প্ল্যাটুনগুলির প্ল্যাটুন কমান্ডারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যপাল। অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যের যে সকল পুলিশ অফিসার ও কর্মীগণ ভারতের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে বিভিন্ন পদকে ভূষিত হয়েছেন তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য রাষ্ট্রপতির পদক পাচ্ছেন টি.এস.আর.-এর সপ্তম ব্যাটেলিয়নের হাবিলদার (জি.ডি.) শিবচরণ দেববর্মা।এছাড়াও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার জন্য মেরিটোরিয়াস সার্ভিস পদক পাচ্ছেন পশ্চিম জেলার ডেপুটি পুলিশ সুপার দেবপ্রসাদ রায়, টি.এস.আর. পঞ্চম বাহিনীর সুবেদার (জি.ডি.) প্রদীপ চন্দ্র দাস, ট্রাফিক ইউনিটের অ্যাসিস্টেন্ট সাব-ইনস্পেকটর (ইউ.বি.) অমল দত্ত, এস.বি. শাখার অ্যাসিস্টেন্ট সাব-ইনস্পেকটর (ইউ.বি.) ধ্রুবজ্যোতি হালদার, টি.এস.আর. সপ্তম বাহিনীর হাবিলদার (জি.ডি.) বিপুল দেব এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার কনস্টেবল জীবন দেবনাথ। পদক প্রাপকদের ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এই পদক তুলে দেওয়া হবে। আজকের প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর, এডিসি এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে বর্ণময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *