আগরতলা: শ্রীনগরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আর এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃত দেহ মিলল সালেমা মোটর স্ট্যান্ড এলাকায়।ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা স্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও ফরেনসিক টিম। মঙ্গলবার সকালে ২৮ বছর বয়সি লিপিকা শর্মা নামে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

ঘটনা কমলপুর সালেমা থানার অন্তর্গত দক্ষিণ সিঙ্গেল এলাকায়। সালমা থানার ওসি সংবাদ মাধ্যমের সামনে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসীর তরফে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তিনি আরো বলেন,১৫-১৬ বছর আগে মানিক ভান্ডারের একটি ছেলের সঙ্গে লিপিকা শর্মার সামাজিক ভাবে বিবাহ হয়েছিল।কিন্তু তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ার পর থেকেই লিপিকা শর্মা তার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে আসেন।এরপর লিপিকা শর্মা বাপের বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করেন।

মঙ্গলবার সকালে বাপের বাড়ির পাশে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে হাজির হয় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ও ফরেনশিক টিমের আধিকারিক গণ। তারা ঘটনাস্থল পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করেন। তখন ঘটনাস্থল থেকে কিছু ব্রাস্টিং পাওয়া যায়। লিপিক শর্মার মুখে গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার পাশাপাশি মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে লিপিকা শর্মার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তার ধারণা পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। তবে পুলিশ ঘটনার পুরো বিষয় জানার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।কে বা কারা এ ঘটনা সঙ্গে জড়িত রয়েছে সেই বিষয়েও পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছে।

এদিকে মৃত লিপিকা শর্মার বড় ভাই তার স্বামীকে এই ঘটনা জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মানিক ভান্ডার থেকে তার মেয়েকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে জানান। তার সঙ্গে লিপিকা শর্মার অনেকদিন আগেই ছাড়াছাড়ি হয়েছে। তিনি আরো জানান, শিলচরে লিপিকা শর্মা একটি পস্কো মামলায় জড়িয়ে ছিল।তারপর থেকেই তিনি তার মেয়েকে তার কাছে নিয়ে লালন পালন করছেন। তিনিও দাবি করেন পুলিশ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। তবে এলাকাবাসী অনুমান করছে মহিলাকে প্রথমে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে।

এরপর পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মুখে এবং মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ডগ স্কোয়ার ও ফরেন সিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেছে। এই বধুকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে এটা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।সালেমা এলাকায় বধুর মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন এলাকা বাসীরাও। এই ঘটনায় আরো একবার প্রমাণিত হলো,রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ঠিক কোন পর্যায়ে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *