আগরতলা: সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। অথচ পূর্বতন সরকার আমাদের কাঁধে প্রচুর ঝামেলা রেখে গিয়েছে। তাদের অনৈতিক কাজের ফল এখনও আমাদের ভুগতে হচ্ছে।

আজ আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে আয়োজিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, সংখ্যালঘু শুধু একটা বিশেষ সম্প্রদায়কে ভাবলে হবে না। এখানে মাইনরিটি অর্থাৎ সংখ্যালঘুরা হচ্ছেন – মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলা কথাগুলির গুরুত্ব অনেক রয়েছে। আজকের দিনে ভারত যেভাবে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন নিচ্ছে সেটা শুধু কথার কথা নয়।

সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস ও সবকা প্রয়াসের মাধ্যমে সেটা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই যারা ভারতবর্ষে রয়েছেন বা যারা ভারতীয় তাদের কল্যাণের জন্য চিন্তা করা। প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রয়েছে মানুষের।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিন তালাক কত বড় ইস্যু ছিল। এরআগে কত নেতা, কত প্রধানমন্ত্রী এসেছেন। কিন্তু কেউ ভয়ে হাত দেননি। যেটা আমাদের পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশ, পাকিস্তানে নেই বা অন্যান্য মুসলিম দেশে নেই, অথচ ভারতবর্ষে রয়েছে। আর সেই তিন তালাককে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাহস করে অবলুপ্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এরফলে আজ সংখ্যালঘু অংশের নারীরা তাদের সামাজিক অধিকার পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সবসময় মানুষের জন্য, সমস্ত সম্প্রদায়ের কল্যাণের জন্য নিরন্তর কাজ করছেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ ভূমিকায় আজ ওয়াকফ বোর্ডের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা এসেছে, সংস্কার সাধিত হয়েছে। আগে ওয়াকফ বোর্ডে মেয়েদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এখন সেখানে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি করার ব্যবস্থা হয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ত্রিপুরাতে ১৬.৪২% রয়েছে। এরমধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ৬ লক্ষ ৩ হাজার ২৩৯ জন। অর্থাৎ জনসংখ্যার ৮.৬০%। ডাঃ সাহা জানান, ২০১৮ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার ত্রিপুরায় আসার পর মানুষের মধ্যে একটা স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। যেমন – ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে, ছাত্রছাত্রী নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে, মাদ্রাসাগুলির উন্নয়ন করা হচ্ছে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে শুধু পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বেকার যুবক যুবতীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও তাদেরকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়নের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর এসব কাজ বাস্তবায়ন করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বতন সরকার আমাদের কাঁধে প্রচুর ঝামেলা রেখে গিয়েছে। যা বলে শেষ করা যায় না। তাদের রেখে যাওয়া অনেক মামলা এখন আমাদের হারতে হচ্ছে। এসব মামলা এখন আর্থিকভাবেও আমাদের কাছে বোঝা হয়ে যাচ্ছে। যেমন চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রেও উল্টোপাল্টাভাবে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পন্থায়, বিভিন্ন উপায়ে সেগুলি দেওয়া হয়েছে। আর সেসব এখন আমাদের ভুগতে হচ্ছে। এরমধ্যেও আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, পূর্বতন সরকার সমস্যা সৃষ্টি করার সরকার ছিল। আর আমরা সমস্যা সমাধানের সরকার। আগের সরকার সন্ত্রাসবাদী তৈরি করেছে। আর আমরা এসে সন্ত্রাসবাদীদের মূলস্রোতে নিয়ে এসেছি। দেশকে শক্তিশালী করতে হলে ছেলেমেয়েদেরও নৈতিকতার যথাযথ পাঠ দিতে হবে। অনৈতিকভাবে চলার দিন শেষ হয়েছে এখন।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, বিধায়ক তফাজ্জল হোসেন, ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান মবস্বর আলি, ত্রিপুরা মাইনরিটিস কো অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কোপারেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহম্মদ জসিম উদ্দিন, ত্রিপুরা স্টেট হজ কমিটির চেয়ারম্যান শাহ আলম, সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের সচিব তাপস রায়, অধিকর্তা নির্মল অধিকারী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *