আগরতলা: বৃহস্পতিবার রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১ তম জন্মতিথি। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে ১৮ ফেব্রুয়ারি,ফাল্গুন মাসে শুক্লা দ্বিতীয় তিথিতে হুগলী জেলার কামারপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করে ছিলেন।মানব জীবনকে দিব্য জীবনে রূপান্তরিত করে তোলার জন্যই ছিল তার আবির্ভাব। ছিলেন রসবিবেত্তা, অমৃত রসের রসিক। রসাশ্রীত ভঙ্গিতে সহজ সরল ভাষায় তিনি উপদেশামৃত বিতরণ করে গেছেন মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য।
মানুষের জীবনে আছে অনামিল,আনন্দের অনুভূতি। মানুষ তার তাপিত জীবনের সংসার ধর্ম কিভাবে পালন করতে পারে-সেই বিষয়ে তিনি যেসব উপদেশ দিয়েছেন,সেগুলি যথার্থভাবে পালন করতে পারলে আমাদের জীবন মাধুর্যমন্ডিত হয়ে উঠতে পারে।প্রতি বছর এই দিনটি গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়।ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১ তম জন্ম তিথি উপলক্ষে সারাদেশের সঙ্গে রাজ্যেও ভক্তিমূলক পরিবেশে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।রাজধানী আগরতলার ধলেশ্বর, আমতলী বিবেক নগর, গাংগাইল রোড সহ রাজ্যের বিভিন্ন রাম-কৃষ্ণ মিশন ও রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম গুলিতে সকাল থেকে বিশেষ পূজার্চনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়। বৃহস্পতিবার ভোরবেলা মঙ্গল আরতি দিয়ে শুরু হয় ঠাকুরের ১৫১ তম জন্মতিথি অনুষ্ঠান। সকাল ৯ টায় শুরু হয় বিশেষ পূজা। এরপর অনুষ্ঠিত হয় হোম যজ্ঞ। তারপর শুরু হয় ভোগ আরতি। এরপর ভক্তবৃন্দের মধ্যে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান। তারপর ঠাকুরের জীবনাদর্শ নিয়ে হয় আলোচনা চক্র। এদিন দিনভর বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে ভজন সংকীর্তনের মাধ্যমে ভক্তরা ঠাকুরকে ভক্তি সহকারে শ্রদ্ধা জানান।
এই পবিত্র দিনে ভক্তরা ঠাকুরের জীবনাদর্শ স্মরণ করে মানবসেবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার অঙ্গীকার করেন। সমাজে শান্তি সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের জন্ম তিথির অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। দিনভর প্রার্থনা ও সেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভক্তরা ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিন প্রতিটি আশ্রমে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সারা রাজ্যের বিভিন্ন রামকৃষ্ণ মঠ মিশন এবং রামকৃষ্ণ অনুপ্রাণিত আশ্রম গুলিতে অগণিত ভক্তদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়।
