আগরতলা: রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ছাড়া কোন কথা নেই। আমাদের সরকার প্রকৃত অর্থে উন্নয়নে বিশ্বাস করে। অথচ বিরোধীরা ত্রিপুরা রাজ্যের উন্নয়ন দেখতে পান না।
আজ আগরতলা পুর নিগমের প্রতাপগড় ঋষি কলোনিস্থিত ৪৩ নং ওয়ার্ডে পুকুরের পুনরুজ্জীবন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ২০২৪ এর মার্চে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। সময়ের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ রূপায়িত হয়েছে। সম্প্রতি আমাদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগরতলায় এসেছেন। হিন্দি ভাষার প্রচার, প্রসার ও স্থানীয় ভাষাকে কিভাবে উন্নয়ন করা যায় ও সম্মান দেওয়া যায় সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। উত্তর পূর্বাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ৩ হাজার প্রতিনিধি এখানে এসেছিলেন। তারা ত্রিপুরার উন্নয়ন দেখে খুবই আপ্লুত হয়েছেন। আগরতলাকে গেইট ওয়ে অফ ত্রিপুরা বলা যায়। বিশাল সংখ্যায় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কারণে থাকার জায়গাও কম মনে হয়েছে। তবে ত্রিপুরার মানুষ কিভাবে অতিথি বরণ করতে হয় সেটা জানেন। অনেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেছেন।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির কারণে ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চল বিকাশের দিশায় এগিয়ে যাচ্ছে। সারা ভারতবর্ষের মধ্যে অমৃত সরোবর গড়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি জেলায় ৭৫টি সরোবর করতে বলা হয়েছে। এজন্য ত্রিপুরাকেও টার্গেট দেওয়া হয়েছে। সেই টার্গেটের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮২টি অমৃত সরোবর গড়ে তোলা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মাটির নিচে থাকা জলস্তর ধরে রাখা। প্রধানমন্ত্রীর এই চিন্তাভাবনা এখন সারা ভারতবর্ষে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
উন্নয়ন ইস্যুতে বিরোধীদের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ডাঃ সাহা বলেন, ত্রিপুরার সামগ্রিক উন্নয়ন বিরোধীরা দেখতে পান না। উন্নয়ন না দেখার জন্য কালো চশমা পড়ে আছেন তারা। কারণ তাদের চোখে ছানি পড়ে গেছে। এজন্য অপারেশন করা দরকার তাদের। শুধু গত এক বছরে আমি সারা রাজ্যে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকার অধিক বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। আমাদের উন্নয়ন ছাড়া কোন কথা নেই। আর এই উন্নয়ন হচ্ছে সাধারণ মানুষের। প্রধানমন্ত্রী বলছেন সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত উন্নয়ন করতে হবে। সেই দিশায় কাজ করছে আমাদের সরকার। অথচ কমিউনিস্টদের নীতি ছিল যত বেশি গরীব রাখা যায় তত ভালো। যত বেশি অজ্ঞান বা পড়াশুনা না জানবে তত বেশি ভালো। কারণ পড়াশুনা জানলে নানা প্রশ্ন করবে তারা। আর আমাদের সরকার ও যশস্বী প্রধানমন্ত্রী চাইছেন যত বেশি মানুষ শিক্ষা দীক্ষা জানবেন, তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে ততই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমাদের সরকার নারীদের সামগ্রিক উন্নয়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই প্রধানমন্ত্রী লাখপতি দিদি তৈরি করার জন্য গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে আমরা ত্রিপুরায় ১ লাখ ১৮ হাজার লাখপতি দিদি তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছি। সেই জায়গায় আমরা ১ লাখ ৮ হাজার লাখপতি দিদি তৈরি করেছি। অর্থাৎ শতাংশের দিক দিয়ে ৯৫%।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাভাবনাকে সামনে রেখে বলেছেন যে আমাদের মহিলাদের উদ্যোগপতি হিসেবে তৈরি করতে হবে। সেজন্য তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ হচ্ছেন মহিলা। কাজেই তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হলেই দেশ সামনের দিকে আরো এগিয়ে যাবে। ডাঃ সাহা বলেন, সারা আগরতলা শহরকে আমরা সাজিয়ে তুলেছি। শুধু আগরতলা নয়, আমরা রাজ্যের সমস্ত নগরগুলিকে উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছি। আগরতলার ইস্টার্ন রিং রোডের কাজ শুরু হয়েছে। ওয়েস্টার্ন রিং রোড অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই রিং রোড তৈরি হলে আগরতলা শহরের যানজট কমে যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, দক্ষিণ জোনের চেয়ারম্যান অভিজিত মল্লিক, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, অধিকর্তা মেঘা জৈন, পুর নিগমের অতিরিক্ত কমিশনার মিহির গোপ, সমাজসেবী অসীম ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
