আগরতলা: শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলির জন্যই শহর এবং গ্রামের মধ্যে শিক্ষার গুণগতমানের ব্যবধান অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষাকে প্রাপ্তিক এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে রাজ্য সরকার। আজ মুক্তধারা অডিটোরিয়ামে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আযোজিত রাজ্যভিত্তিক পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিগণ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ব্যক্তি জীবন, কর্মজীবন, দর্শন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যাসাগর ছিলেন শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, মানবতাবাদী এবং বাংলা গদ্যের অন্যতম পথিকৃৎ। বিদ্যাসাগর বাংলা লিপিকে সহজ পাঠ্য করে তুলেছিলেন। তার কারণেই বাংলা ভাষার প্রভূত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্যই তাকে বিদ্যাসাগর উপাধি দেওয়া হয়। বিদ্যাসাগর নিজে শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি অন্য সকলকে শিক্ষিত করার ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর রচিত সীতার বনবাস, কথামালা বর্ণপরিচয় বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তিনি শুধু অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন না, একজন মানব দরদীও ছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজ থেকে সতীদাহ প্রথা এবং বাল্যবিবাহের মত কুসংস্কারকে সরিয়ে এক সুস্থ সমাজ গঠনে বিদ্যাসাগরের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা ছিল। নারী শিক্ষার প্রসারে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তিনি মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। কারণ তিনি মনে করতেন মেয়েদের উন্নয়ন ছাড়া কোন জাতি বা দেশের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময়ই আধুনিকতার সাথে পুরানো ঐতিহ্যকে বজায় রাখার পক্ষে। তাই জাতীয় শিক্ষানীতিতে আধুনিকতার পাশাপাশি পুরানো ঐতিহ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়কে একটি প্রতিভা বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের মনে আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন করতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। ছাত্র-ছাত্রীদের নৈতিকতা, বিবেক, যুক্তি, সহমর্মিতা, মানবতাবাদী ও দায়িত্ববোধের ভাবধারায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তবেই তারা আগামী দিনে দেশ ও সমাজ গঠনে আরো বেশি করে এগিযে আসতে সক্ষম হবে। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্য মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, শরীর ও মনের বিকাশে সংস্কৃতি চর্চা ও খেলাধুলাও করতে হবে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজ্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত রাজ্যের ২১৩ টি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০৯ জন বালিকাকে বাইসাইকেল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আইসিটি, স্মার্ট ক্লাস, টিঙ্কারিং ল্যাব, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম স্থাপন, নিপুন ত্রিপুরা, সুপার খাটি, বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু, বিদ্যাজ্যোতি স্কুল, পিএমশ্রী স্কুল ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক শিক্ষিকাদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য, বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা ডঃ সমিত রায় চৌধুরী সহ অন্যান্য আধিকারিকগণ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে শিক্ষার প্রগতি কক্ষ এবং পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনের উপর দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *